এ্যামির নব জীবন

অন্যন্যা লেখাটি পড়েছেন 600 জন পাঠক।
 প্রথম অধ্যায়

বাড়িতে খুব হৈচৈ কান্নাকাটি। প্রায় ৮০-১০০ জন বিভিন্ন বয়সের মানুষ উঠানে ভিড় করেছে। তিন বছরের ছোট এ্যামি পানিতে ডুবে গিয়েছিল, পুকুরের পানি স্বচ্ছ ও পরিস্কার ছিল বলে দাদি ঘাটে কাজে গিয়ে দেখে ঘাট থেকে কিছুটা দূরে পানির নীচে এ্যামি মাটির সাথে...... তৎক্ষণাৎ দাদি পানিতে নেমে এ্যামিকে উঠানে নিয়ে এসে চিৎকার করছেন...... আমার এ্যামি আর নাই। বাড়ির উঠানে গ্রামের লোকজনে ভরে গেছে। এ্যামির কোন শ্বাস-প্রশ্বাস পড়ছেনা।

প্রথমে তার ছোট কাকা এ্যামিকে মাথায় করে কিছুক্ষণ লাফায়, কোন কাজ হয়না। পরে তার বাবা পা ধরে ঘুরায়, তাতেও যখন কোন লাভ হয় না। তখন সবাই বলেঃ ও মারা গেছে রেখে দাও মাটিতে। এ্যামির মা নীরব দৃষ্টিতে দেখছিল সবকিছু, আর তার শ্বাশুরি তাকে মারছিল ও বকাঝকা করছিলেন (যা জমিতে কাজ করতে.. বাচ্চাগুলোর দিকে কোন খেয়াল নাই ইত্যাদি ইত্যাদি)। যখন এ্যামির মা দেখলো যে তার মেয়েকে মাটিতে রেখে দেওয়া হচ্ছে - মারা গেছে বলে, সে অমনি দৌঁড়ে এসে এ্যামিকে তার বাবার হাত থেকে নিজের মাথায় নিয়ে লাফ শুরু করে উঠান ভরা মানুষের সামনে। তিনটা লাফ দিতেই এ্যামির নাক মুখ দিয়ে পানি বের হতে শুরু করে, শুরু হয় তার শ্বাসপ্রশ্বাস। নতুন জীবন ফিরে পেল এ্যামি। সবার মধ্যে স্বস্তি  ফিরে এল।

এ্যামির জন্ম এক প্রত্যন্ত গ্রামে । তার বাবা ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথ ডাক্তার। এ্যামি ছয় ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় । এ্যামিদের সংসারটির পুরো দায়িত্ব ছিল এ্যামির মার উপরে, কারণ এ্যামির বাবা ডাক্তারি করতেন ঠিকই কিন্তু মানুষকে বিনা পয়সায় ওষুধ দিতেন। ছোট্ট এ্যামি তখন তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করতো বাবা তুমি কেন মানুষের কাছ থেকে টাকা নাও না ওষুধ দিয়ে? বাবা বলতেন, মা, ওরা গরিব মানুষ, ওরা আমাকে টাকা দিবে কীভাবে.. এ্যামি বলতো বাবা তুমি জমিতে কাজ করা না কেন ? মা কেন একা একা জমিতে কাজ করে? জমিতে মা এতো কষ্ট করার পরে আবার রান্নাও করে আমাদের জন্য। মা একা এত কষ্ট করে সংসার চালায়.. আমাদের চার ভাইবোনদের স্কুলে পাঠায়। বাবা উত্তরে বলেন, আমার জমির কাজ ভাল লাগেন তাছাড়া আমি রোদ সহ্য করতে পারি না।

এ্যামির স্কুলের দুরত্ব তার বাড়ি থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে। সেও তার বড়বোন পায়ে হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে যায়। এ্যামি বাবার পৈত্তৃক বাড়িসহ জমির পরিমান মোটামুটি ভালই ছিল। ভাল থাকলে কি হবে বাবা..?? বাবা তো কখন জমির কাজ করতো না ! মা‘ই নিজে জমির কাজ করতো এবং কিছুু জমি বরগা দিয়ে কোন রকমভাবে সংসার চালাতো। 

বাবা ঘরের ধান বিক্রি করে হোমিও ওষুধ কিনতো ডাক্তারী করার জন্য। এ নিয়ে প্রায় সময়ই অশান্তি লেগে থাকতো মার সাথে। এ্যামির বাবা গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে বেড়াতো যেমন গ্রামে যে বাঁশের সাঁকো (চার) তা পুরানো হয়ে গেলে বা একটি বাঁশ ভেঙ্গে গেলে সে সেই কাজটি আগে করতো । নিজের বাগানের বাঁশ কেটে অথবা বাগানে বড় বাঁশ না থাকলে সে বাঁশ কিনে নিজে গিয়ে সাঁকো মেরামত করত। পাশের বাড়ির কেউ যদি না খেয়ে আছে তা জানতে পারতো তাহলে বাড়ি এসে তার ভাগের খাবার নিয়ে গিয়ে ঐ মানুষটিকে খাওয়াতেন। কখন যদি শুনতো পাশের বাড়ির ক্উে অসুস্থ অথচ ডাক্তারের কাছে যায় না টাকা নেই বলে.. বাবা তখন নিজের তাগিদে ঐ বাড়িতে নিজের ঔষুধ নিয়ে যেত ও তাকে ওষুধ খাইয়ে সারিয়ে তুলতো। এই কাজগুলোতেই যেন তার সব আনন্দ...। 

বাবারএকটি কাজে খুব অবাক হতো এ্যামি, তার মা পিঠা বানাতো কোন পর্বকে উপলক্ষ করে এবং এ্যামি বাবার জন্য পিঠা নিয়ে আসতো প্লেটে করে বলতো বাবা এই নাও পিঠা খাও। বাবা তখন জিজ্ঞেস করতো, তোর কাকাদের ঘরে পিঠা দেওয়া হয়েছে? যদি সে বলতো যে দেওয়া হয় নি তবে বাবা বলতো আমি খাব না এই পিঠাটা তোর কাকার ঘরে দিয়ে আয় কিন্তু দেখিস তোর মা যেন না জানে”। 

এ্যামিরা ছয়ভাইবোন স্কুলে যায়, স্কুলের বেতন বইখাতা দেওয়া মার জন্য খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। তবু সে চাইতো তার সব ছেলেমেয়ে যেন মানুষের মত মানুষ হয়। বড় ভাইয়ের পড়াশুনার প্রতি বেশি একটা মনোযোগ ছিল না। সে ষষ্ট শ্রেণী পাশ করার পর আর স্কুলে যেত চাইতো না সকাল হলে সে যেত জমির কাজে। মা অনেক চেষ্টা করেও তাকে আর পড়াশুনা করাতে পারলো না। সেই ছোট্ট বয়সে থেকেই বড় ভাই সংসারের হাল ধরলো । সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা এলো। জমি যা ছিল তা নিজেরা সব চাষ করে ধান, পাট অন্যান্য ফসল যা হয় তা দিয়ে নিজেদের ভালভাবে চলে যায়। এ্যামি ও তার বড় বোন একই সঙ্গে এসএসসি পাশ করে। ও তারা দু’জনে ঢাকায় চলে আসে চাকুরীর সন্ধানে। 


দ্বিতীয় অধ্যায়


এ্যামির জীবনে শুরু হয় কঠিন বাস্তবতা দিয়ে। সে ঢাকায় এসে উঠে তার এক খালার বাসায়। খালা চেষ্টা করে এ্যামিকে নার্সিংএ ভর্তি করে দেওয়ার জন্য। নাসিং এ তার ইচ্ছা থাকা না  স্বত্বেও খালা প্রেরণায় ও চেষ্টায় ভর্তি পরীক্ষা দেয় কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় এ্যামি সুযোগ পায় না। 

এ্যামির আত্মিয় কাছে থেকে তেমন একটা সহযোগিতা পায় না। বাধ্য হয়ে সে গার্মেন্টস এ কাজ নেয়। এ্যামির খালা এ্যামি ও তার বড়বোনের জন্য একটি হোস্টেলে ব্যবস্থা করে দেয়। হোস্টেলে থেকে সে গার্মেসে কাজ করে আর ভাবে কীভাবে সে তার ভবিষ্যত গড়বে। প্রায় এক বছর গার্মেসে কাজ করার পর সে তার খালাকে বলে তাকে অন্য কোথাও চাকুরির ব্যবস্থা করে দিতে। তার খালা তখন বিদেশী সংস্থার এক কর্মকতার বাসায় ্এ্যামিকে নিয়ে যায় এবং চাকুরীর জন্য অনুরোধ করে। এ  সংস্থার  একটি  প্রজেক্টে পার্ট-টাইম প্রি-স্কুলে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিলেন। চাকুরী পেয়ে খুব খুশি এ্যামি, কারণ সে এখন তার পরাশুনা চালাতে পারবে। সে হোস্টেলে থেকেই পার্ট-টাইম চাকুরী করে পাশাপাশি পড়ালেখা চালায়। অবশেষে একদিন সে এইচএসসিও পাস করে। 

একদিন এ্যামির ছোট ভাই প্রবাল এইচএসসি পাশ করে ঢাকায় এসে উপস্থিত হয়। ঢাকা কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অর্নাস ভর্তি হয়। এ্যামি আরো সমস্যায় পরে কারণ, ভাইটিকেও কিছু সাহায্যে করে হবে তাকে। ভাই প্রবালও হোস্টেলে থাকে এবং দু‘টি টিউশনি করে কিন্তু তাতে তার চলে না। বিভিন্ন সময় বোনের কাছে এসে নানান দাবি করে তার সেন্ডেল লাগবে, ঘড়ি লাগবে ইত্যাদি ইত্যাদি..। এ্যামি চাকরীতে যা পেত তা দিয়ে নিজের চলাই কষ্ট, কারণ বেতন ছিল মাত্র আটশত টাকা। এ্যামি উপায়-অন্ত না পেয়ে আর একটি চাকরি খুঁজতে থাকে। ইতিমধ্যে সে নাইট শিপ্টে  কলেজ বিএ ক্লাসে ভর্তি হয়। এ্যামি আর একটি পার্ট-টাইম চাকরি পেল। এ চাকরিটি ছিল একটি বিদেশী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে বাচ্চাদের গাড়িতে দেখাশোনা করার কাজ। স্কুল ছুটি হয় ২টায়। এ্যামির কাজ ছিল বাচ্চারা গাড়িতে ঠিকমত উঠল কিনা সেটা চেক করা এবং গাড়িতে থেকে প্রতিটি বাচ্চা তাদের বাসায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া। সব বাচ্চাদের বাসায় বাসায় নামিয়ে হোস্টেলে পৌঁছতে প্রায় পাঁচটা বাজতো। হোস্টেলে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার কলেজে যেত সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে।

এ্যামি নাইট সিপ্টে কলেজে পড়ছে ও দু‘টি চাকরী করছে এরই মধ্যে তার জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো । তার কর্মস্থলের পাশে আর একটি প্রজেক্টে পার্ট-টাইম হিসাবে কাজ করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপু নামের একটি ছেলে। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সাথে এ্যামির দেখা হতো। ছেলেটি খুবই সু-দর্শন, স্মার্ট ও মেধাবী ছিল। অপু ছিল ধর্মে বৌদ্ধ। অপু একদিন একটি অনুষ্ঠানে এ্যামমিকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেয়। এ্যামি অবাক হয় কারণ ছেলেটির সাথে তার বন্ধুত্বের কথা সে ভাবতে পারে না । একে--তো ভিন্ন কমিউনিটি তার উপর ছেলেটিকে তার  নিজেকে যোগ্য মনে হত না। এ্যামি তাকে বন্ধু হিসেবে না কলিগ হিসেবেই ভবিষ্যতে দেখতে চায় বলে জানায়। তবুও অপু এ্যামির পিছু ছাড়ে না মাঝে মধো ছুটির দিনে সে হোস্টেলে এ্যামির সাথে দেখা করতে যেত। এ্যামি কিছুটা দ্বিধাদ্বন্ধে তার সাথে বন্ধুেত্বর সম্পর্ক চালিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে তারা দু’জন ঘুরতে যেত। এবং অপু এ্যামিকে সবসময় তার জীবনে ভাল কাজে উৎসাহ যোগাত। বলতো দেখ এ পৃথিবীতে কীট-পতঙ্গের মত বেঁচে থাকার কোন মানে হয় না। মানুষ চেষ্টা করলে তার জীবনকে অনেক সুন্দরভাবে গড়তে পারে। তোমাকেও তা পারতে হবে। তবে তারা কেউই তাদেরকে ভবিষ্যৎতের জীবনসাথী ভাবতো না। শুধু মাত্র ভাল বন্ধু। এভাবে তাদের বন্ধুত্বের এক বছরের মধ্যেই অপু স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে যায় পিএইচডি করতে এ্যামিকে না জানিয়ে। এ্যামি খুবই কষ্ট পায়। কারণ অপু তাকে বলে যেতে পারত। কেন না বলে সে অস্ট্রেলিয়া চলে গেল। এবং অস্ট্রেলিয়া গিয়েও সে আর কখনো যোগাযোগ করে নি !

তৃতীয় অধ্যায়

এরই ই মধ্যে এ্যামি বিএ পাশ করে ও কম্পিউটারের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সফটওয়ারে প্রশিক্ষণ নেয়,  সেসময় এসব সফটওয়ার খুব প্রচলিত ছিল (Word star, Word Perfect, Lotus, Debase, Foxpro )  এবং একটি এনজিওতে চাকরিও পেয়ে যায়।  কিছৃু দিনের মধ্যেই এ্যামির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ালো তমাল নামের একটি হিন্দু ছেলে । এ্যামি তমালকে পছন্দ করে না কিন্তু তমাল নাছরবান্দার মতো এ্যামির পিছনে লেগে থাকে। তমাল অবশ্য উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মজীবি । কাজের ফাঁকে ফাঁকে সে সুযোগ পেলেই এ্যামিকে ফোন করতো । মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলে সে এ্যামির অফিসের সামনে আসতো তার সাথে দেখা করতে। এভাবে কিছুদিন তাদের বন্ধুত্ব ভালই চলল। কিন্তু হঠাৎ করে.. একদিন তমাল এ্যামিকে কিছু না বলে সে উধাও হল। দু’সপ্তাহ শেষে তমাল ফিরে আসে ঢাকায়। ফিরে এসে সে আর এ্যামির সাথে যোগাযোগ করে না। এ্যামি কিছুটা অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটায় ...একদিন সে তমালের অফিসে ফোন করে এবং ফোনটা রিসিভ করে তমালের এক কলিগ সে বলে তমাল সিটে নেই তবে আপনি তার সুখবরের কথা জানেন কী? উত্তরে এ্যামি বলে কই না তো, কিসের সুখবর? উত্তরে তমালের কলিগ বলে ও-- তো-- বিয়ে করেছে!  এ্যামি দ্বিতীয় বার তমালকে ফোন করে এবং তাকে তার সাথে দেখা করতে বলে। 

তমাল এ্যামির সাথে সংসদ ভবনে দেখা করতে আসে। এ্যামি এমনিও তো হতভম্ব। সে তমালকে জিজ্ঞাসা করে আমাকে বলে যেতে পারতে আমাদের সাথে তো বিয়ের কোন কথা ছিল না । আমি তো তোমাকে বাধা দিতাম না। কেন না বলে গেলে? তমাল বলে আমি তো জানতাম না যে আমার জন্য বিয়ে ঠিক করেছে। মা আমাকে ফোন করেছে সে অসুস্থ, আমাকে দেখতে চায় তাই আমি অফিস করে রাতের বাসে বরগুণা চলে গেছি। পৌছে  দেখি তারা আমার বিয়ের আয়োজন করেছে। আমার হাত-পা বাঁধা ছিল আমার-মানে আমি আমার মাকে কষ্ট দিতে চাইনি তাই তাদের সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয়েছে। 

চতুর্থ অধ্যায়

এ্যামির জীবন সাদামাটাভাবে কেটে যায় আরও একটি বছর । সে ব্যস্ত তার এনজিওর চাকরি নিয়ে...সেক্রেটারি টু ইডি এবং অফিস শেষে  কম্পিউটারে  (Foxpro Database Programming)  শেখা নিয়ে । এ্যামি ৫টা পযর্ন্ত অফিস করে চলে যায় ক্লাসে । এবং ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরে রান্না করে খাওয়া, তারপর ঘুম । পরের দিন আবার যথারীতি অফিস ও ক্লাস। এরই মধ্যে তার  ছোট ভাই ও বোন (উইলি ও কনা) তারা দুজ’নই  ঢাকা আসে । ছোট ভাই ইন্টারমিডিয়েড পাশ করেছে  ও বোনটি এসএসসি পাশ করেছে। এখন এ্যামিকে ছোট ভাই ও বোনের দায়-দায়িত¦ সরসরি নিতে হলো। ছোট দুই ভাইবোনের থাকা খাওয়া ও পড়াশুনার খরচ চালাতে তাকে হিমসিম খেতে হয়। এ্যামি তার ভাইবোন দু‘জনকে নিজের কাছে রেখে দুজনকেই অফিস থেকে লোন নিয়ে কলেজে ভর্তি করে দেয়। খুব কষ্টে তার দিন চলে মাস শেষ হতে না হতে তার বেতনের টাকা শেষ হয়ে যেত। অফিসের বস তাকে নিজের মেয়ের মতোই   স্নেহ করতেন এবং এ্যামি কোন সমস্যার কথা জানালে তিনি তা সমাধান করার চেষ্টা করতেন। জীবন এভাবেই হয়তো চলে যেত। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আরও ভালো কিছু বুঝিবা আয়োজন করে রেখেছিলেন এ্যামির জন্য। হঠাৎ একদিন সকালে অফিসে যাওয়া পথে তার পুরানো কলিগ শাওনকে তার অফিসের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এ্যামি। এ্যামি রিক্সা থামায়। সে বলে কি ব্যাপার এই সাত সকালে আপনি!!  শাওন বলে, আপনাকে আমার খুব দরকার, চট করে পকেট থেকে একটি বিজনেস কার্ড বের করে এ্যামির হাতে দিয়ে বলে ফোন করবেন প্লিজ। 

এ্যামি কার্ডটি ব্যাগে ঢুকিয়ে রিক্সাকে বলে, চলো। শাওনের কথা একদম ভুলে গেল এ্যামি একদিন অফিসে ইলেকট্রিসিটি নেই সে তার কিছু পরিচিতজনকে ফোন করতে থাকলো সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ কাউকেই পেল না। হঠাৎ তার ঐ কার্ডটির কথা মনে পড়লো। এ্যামি কৌতূহলি হয়ে কার্ডটি বের করে শাওনকে ফোন করলো।
-শাওন বলে প্রতিদিন আপনার ফোনের অপেক্ষা করি... এত দিন দেরি করলেন কেন? এ্যমি বলে, তো এবার বলেন আমাকে আপনার কি দরকার? শাওন বলে আপনার সাথে আমার অনেক কথা আপনি অফিসের পরে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবেন? 

এ্যামি বলে ঠিক আছে আপনি আজ ৫:৩০মি আসাটগেট আড়ংএর সামনে চলে আসেন। 
তারা দু’জনে হাজির হলো আড়ংএর সামনে । 
শাওন বলে আসলেন তাহলে... জানেন আমি কতদিন আপনার জন্য অপেক্ষা করেছি ...চিঠিতে দেখা করতে বলে। আমি আপনার বাসায় অনেক চিঠি পাঠিয়েছি এবং সেইমত  এসে অপেক্ষা করেছি। পরে বুঝলাম আপনি ঐ বাসায় নেই থাকলে অবশ্যই আসতেন। তারপর থেকে আপনাকে রাস্তায় রাস্তায় খুঁজি..। প্রায় তিনবছর হলো আপনাকে খুঁজে ফিরছি...। আমি জানতাম একদিন না একদিন আপনাকে আমি খুঁজে পাবই। 
যাক, সেকারণে আপনাকে আমি খুজেঁছি তা হলো আপনি আমাদের সংস্থা থেকে চাকরি ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর থেকে আমি অনুভব করতে শুরু করলাম আপনাকে। এবং আপনাকেই আমার চাই.... । কিন্তু কীভাবে পাব ? অন্য কলিগদের কাছে বহু কষ্টে একটি ঠিকানা যোগার করলাম এবং তারপর থেকে ঐ ঠিকানায় চিঠি দিতাম। 

এ্যামি কিছুটা বিরক্ত ও হতবাক হয়ে শাওনের কথা শুনে সংসদভবনের সামনে সিড়িঁতে বসে। এবং শাওন বলে আমি সত্যিই আপনাকে অনেক ভালবাসি তাই তো রাস্তায় রাস্তায় খুঁজেছি। চলবে...... 

পাঠকের মন্তব্য


আলো : Excellent !

একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog