পৃথিবীর মানুষ আসছে

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 568 জন পাঠক।
 ‘বাতাস আরও ভারি হবে।
রামধনুর রথে করে আসবে কাজাকরা।
তারপর পৃথিবীতে শুধুই শূন্যতা বিরাজ করবে।
সৃষ্টির আদিতে কিছু ছিল না,
সৃষ্টির শেষেও কিছু থাকবে না।’


“গোটা গ্যালেক্সিতে পৃথিবীর মেয়েরাই সবচেয়ে সুন্দর!”

 ১. 
অসম্ভব একটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ‘ লা সুইকা’ মানমন্দিরে। ‘হাই -সুপার’ কম্পিউটার একঘন্টা আগেও যে তথ্য দিয়েছে তাতে দারুন  উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে মঙ্গলগ্রহে। মঙ্গলের দশটি সুপার কলোনীতে জরুরি সর্তকতা ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তঃ কলোনী স্পেসশিপগুলোকে স্পেস ডোমে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ছায়াপথের কাছাকাছি অবস্থিত মঙ্গলের স্পেস ঘাঁটি ‘নেব্যুলা –৭৫ ’এর সব স্পেস ফাইটারকে সর্তক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

মঙ্গলগ্রহের বিভিন্ন কলোনীর বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক যাতে না ছড়ায় সে জন্য সব খবর গোপন রাখা হচ্ছে। কিন্তু আন্তঃ কলোনী যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখায় মঙ্গলবাসীদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা কেন্দ্রীয় হাই-সুপার কম্পিউটারে বার বার একসেস চাচ্ছে, কিন্তু কোনভাবেই পাস ওয়ার্ড একসেস পাওয়া যাচ্ছে না। হাই -সুপার কম্পিউটার সব নেটওয়ার্ক পাসওয়ার্ড পাল্টে দিয়েছে বিশেষ নিরাত্তার কারণে।

‘মঙ্গল মিডিয়া’ সেন্টারের সাংবাদিকরা কিন্তু বসে থাকলেন না। মিডিয়া সেন্টারের নিজস্ব কম্পিউটার বিদ্যমান ঘটনাবলী, অতীতের ঘটনা এবং সর্তকতার মাত্রা বিশ্লেষণ করে একঘন্টা পরে সাংবাদিকদের জানালো আসল ঘটনাটি কি ঘটেছে। মনিটরের লেখা দেখে এবং কম্পিউটারের ডাটা প্রিন্ট পেয়ে সাংবাদিকরা হতবাক হয়ে গেলেন। তারা বুঝতে পারলেন যে এ খবরে সাধারণ মঙ্গলবাসীর মনে ভয়ানক আতংক দেখা দেবে। তাই ‘ লা সুইকা ’ মানমন্দিরে গোপন বার্তা পাঠানো হল- ‘ পৃথিবীর মানুষ আসছে’ সংবাদটি কি সঠিক?

 হ্যাঁ, খবরটি সঠিক -  হাই ফোম চেয়ারে বসে দুলতে দুলতে মঙ্গলের প্রধান নির্বাহী লারা মারি ভিডিও ফোনে কথাটি স্বীকার করলেন মঙ্গল বার্তা সংস্থার প্রধানের কাছে। তবে এখনও আমরা নিশ্চিত নই যে, পৃথিবীর মানুষ আমাদের সম্পর্কে কতটুকু জানে। লারা মারি মঙ্গল বার্তা সংস্থার প্রধান স্মিরমাকে আরও জানালেন, ম্যাক (মঙ্গলগ্রহে যেকোন ভদ্রলোককে ‘ম্যাক’ বলা হয়) স্মিরমা আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে পৃথিবীর মানুষ যখন পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তখন তা মনিটর করতে আমরা বেশ ক’বার পৃথিবীতে অভিযান চালিয়েছিলাম। অবশ্য তখনও পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে কোন যোগাযোগ স্থাপন করা হয়নি। তবে পৃথিবীর সাইবেরীয় অঞ্চলে আমাদের যে মহাকাশযানটি ভেঙ্গে পড়েছিল তা নিয়ে পৃথিবীতে বেশ ক’টি কল্পকাহিনী তৈরি হয়েছে। যদিও মঙ্গলবাসীর আগমন সম্পর্কে ‘নাসা’র কম্পিউটারে নতুন নতুন তথ্য আছে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। পৃথিবীর সাধারণ মানুষ এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। রাশিয়ানদের কাছে এ সম্পর্কে অনেক তথ্য থাকলেও তারা তা কখনই প্রকাশ করেনি।

২. 

মঙ্গলগ্রহের ছোট দু’টি উপগ্রহের আন্ডার গ্রাউন্ড স্পেস স্টেশনে জীবনযাত্রা অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক রয়েছে। উপগ্রহ ডোভান এবং প্রভারোর মধ্যে আন্তঃ উপগ্রহ সুপার রেস প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এবং রোবট পরিচালিত এ স্পেস কার প্রতিযোগিতা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মঙ্গলগ্রহের প্রতিটি আন্ডার গ্রাউন্ড স্পেস স্টেশন টেলিভিশিন নেটওয়ার্ক এ প্রতিযোগিতা স¤প্রচার করে থাকে। কিন্তু হঠাৎ টিভিতে ঘোষক বিশেষ ঘোষণা নিয়ে উপস্থিত হল- ‘মঙ্গলগ্রহের সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিষদ দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, এক বিশেষ আপদকালীন পরিস্থিতিতে আন্তঃ উপগ্রহ রেস প্রতিযোগিতা বাতিল করা হয়েছে। এসময় সব ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মঙ্গলগ্রহে সাত দিনের বিশেষ ছুটি পালন করা হবে।’

মঙ্গল বার্তা সংস্থার প্রধান স্পিরমা যখন স্পেস কলোনীতে নামলেন তখনও টিভিতে সবাই বিশেষ ঘোষণাটি শুনছিল। সঠিক কারণ জানা না থাকায় নানা গুজবও ডালপালা মেলছিল। কেউ কেউ বলছিলেন মহাজাগতিক ঝড় আসছে। আবার অন্যান্যরা বললেন এনড্রোমিডার ভিনদেশীরা আক্রমণ করতে আসছে। 

বাসায় আসার সঙ্গে সঙ্গে স্পিরমার মেয়ে লুইজানা দৌঁড়ে আসে। কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
- জানো বাবা, উপগ্রহ রেস বাতিল করা হয়েছে।
- তাতে কোন দুঃখ পাবার কারণ নেই লুইজানা, স্পিরমা মৃদু হেসে জবাব দিলেন।
- তোমার জন্য এর চেয়েও উত্তেজনাকর খবর আছে। একটু অপেক্ষা কর, রাতের খাবার খেয়ে তোমাকে খবরটা জানাবো, কেমন।

খাবার পরে সবাই মিলে স্বাস্থ্যকর স্পেরিজোনা ফলের রস পান করলো লুইজানারা। স্পিরমা এবার মেয়ের দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন পৃথিবীর নাম শুনেছ লুইজানা? বাবার প্রশ্ন শুনে খিলখিল করে হাসিতে লুইজানার সবুজ চোখের মণি জ্বল জ্বল করে ওঠে বা -রে কেন শুনবো না। এটা আবার কোন প্রশ্ন হল না’কি? 

পৃথিবী হচ্ছে আমাদের সৌর সিস্টেমের তৃতীয় গ্রহ। আর সৌর সিস্টেমের অন্যান্য গ্রহের মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই সবুজের সমারোহ আছে। তবে পৃথিবীর প্রাণীরা  খুব একটা সভ্য নয়। যুদ্ধ, হানাহানি সেখানকার স্বাভাবিক ঘটনা। আরও বলবো? এক নাগারে এতগুলো কথা বলে লুইজানা কিছুটা ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়ে।
কিন্তু বাবা হঠাৎ আমরা পৃথিবী নিয়ে এত কথা বলছি কেন? তুমি কি পৃথিবীতে যাবার কোন পরিকল্পনা করছো?

স্পিরমা বলেন, আমি পৃথিবীতে যাচ্ছি না, পৃথিবীর মানুষই আমাদের কাছে আসছে। তবে মঙ্গলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ এ মুহূর্তে পৃথিবীর সঙ্গে কোন যোগাযোগ করতে চায় না। আর পৃথিবীর মানুষরা ঠিক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসছে তাও আমরা জানি না। গত কিছু দিন ধরে একটি মহাকাশযান মঙ্গলের দিকে এগিয়ে আসছে। আমাদের কম্পিউটার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে মহাকাশযানটি মঙ্গলের কক্ষ পথেই প্রবেশ করবে। তবে পূর্বের মত অনুসন্ধানী যন্ত্রপাতি লাগানো মহাকাশযানই আসছে কিনা সে বিষয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত নই। তা’ছাড়া পৃথিবীর মহাশূন্যযানের কম্পিউটার আমাদের ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ইন্টারসেপ্ট করতে সক্ষম হলে পৃথিবীর মানুষ মঙ্গলে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব টের পেয়ে যাবে। তাই পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ এবং আন্তঃ উপগ্রহ রেস বাতিল করা হয়েছে। তবে আমাদের অস্তিত্ব গোপন রাখা হবে ‘ সাইকিক পাওয়ার ব্যারিয়ার বেল্ট'’ তৈরি করে।

৪.

স্পিরমা যখন তার সহকর্মী লিনটামোকে নিয়ে ‘ লা সুইকা মানমন্দিরে’ পৌঁছালেন ততক্ষণে কম্পিউটার বিশ্লেষণে পৃথিবী থেকে আসা স্পেসশিপের কার্যধারা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে পৌঁছেছে। তারা এটি জেনে খুশি হলেন যে, আগত প্রায় স্পেসশিপে কোন মানুষ নেই। তবে যে কম্পিউটার স্পেসশিপটি নিয়ন্ত্রণ করছে তার মেমোরী ডিভাইস খুবই শক্তিশালী। বিজ্ঞানী রোনাক অন্যান্য বিজ্ঞানীদের বললেন, কোন মানুষ যখন স্পেসশিপে নেই তখন কিছুটা বিপদ কমলো। এটি নিশ্চিত হওয়া গেলো যে আপাতত কোন কলোনী স্থাপনের পরিকল্পনা পৃথিবীর মানুষের নেই। তবে সমস্যা হবে ডোভান এবং প্রভারোকে নিয়ে। কম্পিউটার চালিত স্পেসশিপের ক্যামেরায় যদি এ’দুটি উপগ্রহের স্পেস কলোনী ডোমের ছবি উঠে তা’হলে পৃথিবীর মানুষ ঠিকই টের পেয়ে যাবে যে, মঙ্গলে বুদ্ধিমান প্রাণী আছে। সেক্ষেত্রে ‘সাইকিক ব্যারিয়ার’ তৈরি করে পৃথিবী থেকে আশা স্পেসশিপটির কম্পিইটার এবং ক্যামেরাকে নিউট্রালাইজ করে দিতে হবে। তাতে স্পেস কলোনীর কোন ছবি পৃথিবীতে যাবে না। শুধু এবড়ো - থেবড়ো গিরিখাতের ছবি পৃথিবীতে পৌঁছোবে।

৫.

মঙ্গলবাসীরা বহু বছর আগে পৃথিবীর বার্মুডা ঘাঁটি ছেড়ে চলে আসে। বিজ্ঞানী রোনাকের ধারণা বার্মুডা ঘাঁটি ভালোভাবে তথ্য সরবরাহ করতে পারতো, কারণ তখন তারা পৃথিবীতেই অবস্থান করতো। বিজ্ঞান পর্ষদের সভা শেষ হবার পর স্পিরমা বললেন, আসলে আমরাই তো পৃথিবীর ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন বুঝতে পারছি পৃথিবীর মানুষকে এতটা দুর্বল ভাবা ঠিক হয়নি। যাক এখন থেকে আমাদের পৃথিবীর খবর নিয়মিত রাখতে হবে। প্রাথমিক ভয় কেটে গেছে, যেহেতু পৃথিবীর মানুষ এখনই আসে নি। তবে তারা আসবে। আর তা খুব শীঘ্রই।

সেদিন স্পিরমা বাসায় ফিরে আসলে লুইজানা জিজ্ঞেস করে, বাবা, পৃথিবীর মেয়েরা কি খুব সুন্দরী?
-‘তোর মা কি বলে’?
- মা ’তো বললো পৃথিবীর মেয়েরা আমাদের সারা গ্যালেক্সীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী।
- কেন? তাতে তোর কি দুঃখ লাগছে?
- তা না, তবে খুব দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে আমার বয়েসী পৃথিবীর কোন মেয়েকে!
-বেশ তো কিছুদিনের মধ্যেই বার্মুডায় আবার ঘাঁটি করতে যাচ্ছে মঙ্গলবাসীরা। তখন তাদের সঙ্গে পৃথিবীতে গিয়ে প্রাণ ভরে দেখে এসো পৃথিবীর সুন্দরী মেয়েদের। লুইজানা এই আনন্দের খবরটি ওঁর বান্ধবীদের জানাতে গেলো তক্ষুণি। মেয়ের ছেলেমানুষী দেখে স্পিরমাও না হেসে পারলেন না। তবে স্পিরমা জানেন এখনও সময় আসেনি পৃথিবীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার। তাই মেয়ের মত খুশি হতে তিনি পারলেন না।

৬.

মঙ্গলগ্রহের সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিষদের সভা বসেছে। প্রধান নির্বাহী লারা মারি বিভিন্ন স্পেস কলোনীর বিজ্ঞানীদের জানালেন আপাতত আমরা ‘সাইকিক পাওয়ার বেল্ট ব্যারিয়ার’ সৃষ্টি করে পৃথিবীর পাঠানো মহাকাশযানকে সঠিক তথ্য পাঠাতে বাধা দেব। তবে সে সঙ্গে আমাদের একথা ভুললে চলবে না যে, ‘পৃথিবীর মানুষ আসছে’ এবং তা খুব শীঘ্রই। পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হবেই। সেজন্যে আমাদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। অবিলম্বে পৃথিবীর বার্মুডা ঘাঁটি আবার চালু করতে হবে। সবাই একমত হলেন যে, মঙ্গলবাসীর কাছে পৃথিবীর মানুষ আসার খবরটি আর গোপন রাখার দরকার নেই। হয়তোবা পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে মহাজাগতীয় ঐক্য স্থাপিত হবে। মঙ্গলের লোকেরা আবার প্রাকৃতিক সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে হাঁটতে পারবে। অন্যদিকে পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে আধিপত্যের লড়াই শুরু হবার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই কিছুটা যেন উৎকণ্ঠা নিয়েই সভার কাজ শেষ হল।
 
সন্ধ্যানাগাদ মঙ্গলবাসী জেনে গেল সব খবর। মঙ্গল টেলিভিশনের সান্ধ্য কার্যক্রমে পৃথিবী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসহ জানানো হল খুব শীঘ্রই মানুষ আসছে পৃথিবী থেকে।

৭.

সেদিন রাতের খাবার পর্ব শেষে লুইজানার নানা গ্রাসিয়া প্রো নাতনীকে এক চমৎকার গল্প শোনালেন....

সে অনেক, অ- নে - ক কাল আগের কথা। পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুর প্রশান্ত মহাসাগরের তীর থেকে এরিয়ান পর্বতমালার উপত্যকার মাঝখানে রয়েছে নাজকার মরুভূমি এলাকা। পৃথিবীতে যীশুখৃস্টের জন্মের একশো বছর আগে নাজকায় এক সভ্য জাতির আর্বিভাব ঘটে। এ জাতির কৃষি নির্ভর সভ্যতা গড়ে তুলতে মঙ্গলবাসী বিশেষ অবদান রাখে। তারপর নাজকায় একটি খুব সুন্দর শহর গড়ে উঠে। এ শহরের মঙ্গলবাসী এক তরুণের প্রেমে পড়লো নাজকার খুব সুন্দরী একটি মেয়ে - জেনিয়া। মঙ্গলবাসী এ বিয়ে মেনে নিলেও নাজকার মানুষরা মানলো না। তাদের আক্রমণের সময় অসাবধানতায় মঙ্গলবাসীদের একটি স্পেসশিপে ভয়াবহ পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলো। পুরো সভ্যতাটি ধ্বংস হয়ে গেলো। তারপর.... হাজার  বছরেও পৃথিবীর এ অংশে বৃষ্টি হয়নি। আজও পৃথিবীতে নাজকা অসম্ভব রকম শুকনো স্থান হয়ে আছে।

পৃথিবীর দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে হোপি ইন্ডিয়ানদের সঙ্গে মঙ্গলবাসীর আজও ভাল সম্পর্ক রয়েছে। এখানে পাথরের গায়ে গোল শিরস্ত্রাণ পরা যে ছবি এঁকে রেখেছে হোপিরা তা আসলে মঙ্গলবাসীরই ছবি। এখনও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হোপি ইন্ডিয়ানরা এক লাল নগরীর গল্প শুনিয়ে বাচ্চাদের ঘুম পারায়। হোপি গোষ্ঠী এখনও মঙ্গলবাসীকে ‘কাচিন’ নামে চেনে। তাদের আজও বিশ্বাস আছে যে, ‘কাচিন’রা আকাশ থেকে আবার নেমে আসবে পৃথিবীর চরম বিপদের দিনে।

গ্রাসিয়া প্রো নাতনীকে গল্পের শেষে বললেন, দেখলে তো পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের কেমন ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। দেখে নিও পৃথিবীর মানুষ এলে দু’একজন হোপিও থাকবে তাদের সঙ্গে। কে বলতে পারে হয়তো বুড়ো হোপি ইন্ডিয়ান সর্দার লরেঞ্জোর নাতির -নাতির- নাতির সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে আমার! হোপি ইন্ডিয়ান মেয়েরাও কিন্তু দেখতে কম সুন্দরী নয়। এবার তোমার মনের সাধও পূর্ণ হতে পারে।
আর জেনে রেখো গোটা গ্যালেক্সিতে পৃথিবীর মেয়েরাই সবচেয়ে সুন্দরী!

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog