বাতওয়ালের ক্ষুধা (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 111 জন পাঠক।
 ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকশন গল্প কাহিনী

বাতওয়ালের ক্ষুধা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

গত কয়েকদিন ধরে লাল আলোটা বারবার পারভেজের আশপাশে খেলা করে বেড়াচ্ছে। যদিও এ আলোর একটি ব্যাখ্যা দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ছাপা হয়েছে। তবু তা পারভেজের মনের কৌতূহল দমাতে পারে নি। পারভেজের দেখা লাল আলো আর ঢাকা শহরে হঠাৎ হঠাৎ দেখতে পাওয়া লেসার গানের লাল আলোর কারসাজির মধ্যে কোথায় যেন একটি বিরাট ফারাক রয়েই যাচ্ছে।

পারভেজের দেহের ওপর যতবার এ লাল আলো এসে পড়েছে ততবার সে তার চোখের সামনে অদ্ভূত সব ছবি দেখতে পেয়েছে। মনে হয়েছে, কানের কাছে কারা যেন অজানা ভাষায় কথা বলতে চাইছে।
ইদানিং এ লাল আলোর উৎপাত পারভেজের মাথা খারাপ করার অবস্থা করেছে। পারভেজ শেষে বিরক্ত হয়ে তার মেজো ভাবীর বাসায় চলে যায়। এই ভাবীর সঙ্গে তার জমে ভালো। তাছাড়া ভাবীর কলেজে পড়া টিনএজার ছোট বোনটা চমৎকার সব মজার মজার জোকস বলতে পারে। সুতরাং সেখানে গেলে সিরিয়াস ভাবনা ভুলে থাকা যাবে। সপ্তাহখানেক সেখানেই থাকবে বলে পারভেজ ঠিক করে।

সময়টা পৌষ মাসে মাঝামাঝি। ঢাকায় সে বছর হঠাৎ করেই তীব্র শীত পড়েছে। পারভেজ যখন মেজো ভাবীর বাসায় পৌঁছলো তখন সন্ধ্যা হয়েছে মাত্র। কিন্তু এর মধ্যেই বাইরে ঘন কুয়াশার আস্তরণ নেমে গেছে।  এত ঘন কুয়াশা সচরাচর ঢাকায় দেখা যায় না। গরম ধূমায়িত আদা দেওয়া চা খেতে খেতে মেজো ভাবীর কলেজে পড়ুয়া ছোট বোন শোভার  সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল পারভেজ। নানান প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে শোভা হঠাৎ উৎসাহ ভরে পারভেজকে বলে, চল না পারভেজ ভাইয়া, আমরা ইন্টারনেটে কাউকে বন্ধু হিসেবে খুঁজে ফিরি। যেই ভাবনা সেই কাজ। দুজনে মিলে ওয়েব চ্যাটে বন্ধু খুঁজে ফেরে। পেয়েও যায় সুইডেনের একটি বন্ধু। চ্যাটিং এর এক পর্যায়ে শোভা অবাক হয়ে যায়। ওয়েব পেজে অন্যরকম লেখা আসছে। তাও আবার পারভেজ ও শোভা দু’জনকে উদ্দেশ্য করেই। নতুন একটি ওয়েব পেজ অ্যাড্রেস দেওয়া হচ্ছে বারবার। নতুন একটি ওয়েব পেজ অ্যাড্রেস দেওয়া হচ্ছে বারবার।  নতুন পেজ অ্যাড্রেসটি লিখে এন্টার দিতেই কম্পিউটার মনিটরে রং পাল্টে যেতে লাগলো।  অদ্ভূত নীলাভ আভা মনিটরে আস্তে আস্তে ফুটে উঠতে লাগলো।  শোভার মনে হল মহাশূন্যের কোনো ছায়াপথেরু জীবন্ত ছবি যেন একটু একটু করে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে মনিটরের পর্দায়। তারপর ছোট ফুটকির মতো অসংখ্য তারকামণ্ডলী দেখা দেয়। মনে হয় কম্পিউটার মনিটরটা যেন ভেসে চলেছে মহাশূন্যে। সবকিছু বড্ডো অদ্ভুত লাগে পারভেজ আর শোভার কাছে। তাদের বিস্ময়ের ঘোর ভালোভাবে না কাটতেই পর্দায় ভেসে উঠে এক আশ্চর্য দৃশ্য। ক্রমেই অনেক নক্ষত্রের মাঝে একটিমাত্র গ্রহ বিশিষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। গ্রহটির নামসহ পরিচিতি মনিটরে ভেসে উঠে।

অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রমণ্ডলীর কাছে পৃথিবী থেকে সাড়ে দশ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অ্যাপসিলান অ্যারিডিনা সৌরজগতের  সতেরো নম্বর গ্রহ মারভিলা। এর কাছকাছি রয়েছে ভ্যালে সারিয়া-১ ও ভ্যালে সারিয়া-২ নামের দুটি ছায়াপথ। তথ্য আসছে মারভিলা থেকেই। পাঠানো তথ্যের মধ্যে পারভেজ আর শোভাকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘মারভিলা গ্রহের অধিবাসিদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। গত কয়েকদিন ধরে আমরা আপনাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, কিন্তু যে কারণেই হোক তা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠে নি। তাই বাধ্য হয়েই আপনাদের ইন্টারনেটে বিশেষ একসেস নিতে হল। আপনাদের মধ্যে পারভেজকে আমাদের বিশেষ ও বেশি প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য বলতে হবে যে ঘটনাচক্রে শোভা আমাদের পরিকল্পনায় অর্ন্তভুক্ত হয়ে পড়েছেন।  আপনাদের উভয়েরই মস্তিষ্কের গঠন স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে ভিন্নতর। আমাদের কম্পিউটার মাইন্ড রিডিং থেকে দেখা গেছে আপনাদের মস্তিষ্ক কোষের বিন্যাস অন্যরকমের।

আর শোভাকে আমাদের পরিকল্পনায় নেওয়ার একটি কারণ হচ্ছে শোভার রেড ইন্ডিয়ান বন্ধু পিংকি। শোভা যুক্তরাষ্ট্র্রের আলাবামা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় পিংকি তার খুবই ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। রেড ইন্ডিয়ান ও ইনকা সভ্যতার উপর শোভা ও পিংকি যে লেখাপড়া করেছে তা থেকে বোঝা যায় শোভার মস্তিষ্কের কোষের গঠন পিংকির প্রায় সমান ছিল। ফলে আবেগগত ভাবে শোভা ও পিংকি সমপর্যায়ের।
শোভার মাধ্যমে তোমাদের পৃথিবীতে মারভিলা গ্রহের বিজ্ঞানীরা এক নতুন আলট্র সুপার সিভিলাইজেশন গড়তে চাচ্ছে। এতে পারভেজের ভূমিকা হবে অনুঘটকের। তবে এ কাজে পৃথিবীর বর্তমান আমারা বিলুপ্ত করে দেবো কয়েক মিলি সেকেন্ডে। তার আগে শোভা ও পারভেজ আপনাদের দু‘জনকে নিয়ে যাওয়া হবে বারমুডায়। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পূ্র্ব উপকূলে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল।  ত্রিভুজাকৃতির অঞ্চল এটি। এর পশ্চিমে রয়েছে ফ্লোরিডা উপদ্বীপ, পূর্ব দক্ষিণে পোর্টেরিকো দ্বীপ এবং উত্তর পূর্বে রয়েছে বারমুডা দ্বীপ। এই ত্রিভুজাকৃতির স্থানটির ভৌগলিক অবস্থান হল ২৫.৪০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৫৫.৫৮ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। এর আয়তন প্রায় ৩৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার। দীর্গদিন এখানে মঙ্গলগ্রহের ঘাঁটি ছিল। তারা এ ঘাঁটি আন্তঃস্পেস চুক্তি অনুসারে বর্তমানে মারভিলাকে দিয়ে গেছে। এখানে আরো রয়েছে পুয়েবলো রেড ইন্ডিয়ানরা। এখানে আসলে মারভিলা গ্রহের অধিবাসি আর রেড ইন্ডিয়ান আদিবাসীদের বিভিন্ন গোত্রের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় হবে। এখন কী বোর্ডের এম অক্ষরটি প্রেস করুন নতুন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনাবলী পাবেন। ‘লা সাইগা মারভিলা’- মারভিলার জয় হোক’। মুহূর্তের মধ্যে মারভিলা গ্রহের ওয়েব পেজটি উধাও হয়ে গেল। শোভা ও পারভেজ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে মনিটরের দিকে তাকিয়ে রইলো। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog