সাম্প্রতিক প্রকাশনা

বাতওয়ালের ক্ষুধা (ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ) ধারাবহিক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 1580 জন পাঠক।
 ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

আলট্রারাম ক্রোম সাতশো সাত। হাই মাল্টি সুপার কম্পিউটার। পৃথিবীর বারমুডায় মারভিলা গ্রহের প্রধান নিরাপত্তা কম্পিউটার এটি। বানানোর সময়ই এর মেমোরি চিপসে পৃথিবীর মানুষের সব মানবিক অনুভূতিগুলো দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আলট্রারাম ক্রোম সাতশো সাত তার প্রোগ্রাম করা কার্যক্রমের বাইরেও নিজে নিজে অনেক অনুভূতি ও আবেগগত বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাই গোটা গ্যালাক্্িরতে পৃথিবীর মেয়েরাই সবচেয়ে সেন্টিমেন্টাল এটি আলট্রারাম ক্রোম সাতশো সাত  অনেকদিন আগেই শনাক্ত করতে পেরেছে।

মারভিলার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ান ও বাঙালি মেয়ে নিয়ে যে গবেষণা চালাতে যাচ্ছে তার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব এখন ন্যস্ত রয়েছে এই আলট্রারামের ওপর। সেই এখন সর্বেসর্বা। মানুষের মন আলট্রারামের মৌলিক গবেষণার বিষয়। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন, বিশেষত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মেয়েদের মস্তিষ্কের গঠনপ্রণালী, কোষ বিন্যাস আলট্রারামকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে গত কিছুদিন ধরে। 

মারভিলা গ্রহের সর্বোচ্চ পরিষদ চাচ্ছে রেড ইন্ডিয়ানদের সর্র্বশেষ প্রজাতি ও বাঙালি মেয়েদের সঙ্গে বাংলাদেশের এবং মারভিলার পুরুষদের স্পার্ম মিউটেশন ঘটিয়ে ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে আলট্রাসুপার মনুষ্যপ্রজাতি তৈরি করতে। আর এখানেই বিপদের পড়েছে আলট্রারাম। বাঙালি মেয়েদের মস্তিষ্কের  কোষবিন্যাস তাকে রীতিমত ঘামিয়ে তুলেছে। বিচিত্র চিন্তাধারা, আবেগ ও অনুভূতির স্তর। নীতিজ্ঞান ও বাস্তবাদীতায় রেড ইন্ডিয়ান মেয়েদের কাছকাছি থাকলেও বাঙালি মেয়েদের সহজাত রুখে দাঁড়াবার প্রবণতা আলট্রারাম ক্রোমকে চিন্তিত করে তুলেছে। সে বুঝতে পারছে মারভিলার পুরুষ ও বাঙালি মেয়েদের ডিএনএ মিউটেশনে যে আলট্রাসুপার জাতির উদ্ভব ঘটবে তারা তীব্রভাবে যেমন স্বাধীনতাপ্রিয় হবে, তেমনি খুব স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে রেড ইন্ডিয়ান মেয়েদের সহজাত আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব আর বাঙালি পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতা একটি বিচিত্র প্রজাতির উদ্ভব ঘটাতে পারে যাদের মস্তিষ্কের  কোষ বিন্যাস নিয়ন্ত্রণ করা ডিজিটালাইজভাবে জটিল হয়ে পড়তে পারে।

আলট্রারামের অষ্টম মনিটরের পর্দায় ভেসে ওঠে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। তারপর সুন্দরবনের মাইলের পর মাইল বৃক্ষরাজির দেয়াল। ডিজিটাল চোখ দিয়ে অপর সবুজের শোভা দেখে সে মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়। নিজের মধ্যে মানুষের সহজাত আবেগ অনুভূতি তাকে অবাক করে দেয়। আর তখনই আলট্রারামের সুপার হাই মেমোরিতে ‘রোমিও জুলিয়েটের প্রেম উপাখ্যানের’ সিডি সক্রিয় হবার সংকেত পাঠায়। মনে মনে আলট্রারাম খুশি হয়। গবেষণা বা শক্তি প্রয়োগে নয় প্রেমের মাধ্যমে দুটি যুগলকে একত্র করতে হবে। 

সিডিতে এবার আলট্রারাম পৃথিবীর প্রাচীনতম সব প্রেম গাঁথা রিভিউ করে দেখতে লাগলো। এক সময় জানতে পারলো পৃথিবীতে যীশু খ্রীস্টের জন্মের একশো বছর আগে নাজকায় এক সভ্য জাতির আর্বিভাব ঘটে। এই জাতির কৃষি নির্ভর সভ্যতা গড়ে তুলতে মঙ্গলবাসী বিশাল অবদান রাখে।  তারপর নাজকায় একটি খুব সুন্দর নগরী তৈরি হয়। 

এই নগরেরই এক খুব সুন্দরী নাজকার মেয়ে প্রেমে পড়লো মঙ্গলবাসী এক তরুনের। আলট্রারামের আনন্দ আর ধরে না। তার মারে হয়তোবা রেড ইন্ডিয়ান মেয়ে আর মঙ্গলবাসীর মধ্যে সুপার জেনারেশনের বীজ আগে থেকেই বপন করা আছে। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলের হোপি ইন্ডিয়ানদের সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী হয় আলট্রারাম। তবে সে ঠিক করে পুরো বিষয়টি এখনই সে মারভিলার সর্বোচ্চ পরিষদে জানাবে না। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog