সাম্প্রতিক প্রকাশনা

সময় গেলে সাধন হবে না (ধারাবাহিক জীবন কাহিনী)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 738 জন পাঠক।
 ধানমন্ডী ধনীদের্ এলাকা হিসে্বে আশির দশক পর্যন্ত মাথা উচুঁ করে ছিল।এখন ধানমন্ডীর সেই বনেদী ভাব মুছতে বসেছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা এখন বনেদী পাড়া। ঢাকা ক্রমশই বদলে যাচ্ছে।

যুগ,কাল, প্রজন্ম মানুষকে পাল্টে দেয়।দিয়েছেও। সেই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, আমদানি ও সহজলভ্যতা প্রজন্মকে দ্রুত বদলে দিয়েছে। সেই সাথে ঘটেছে কালো টাকার বিস্তার। দ্রুত বড়লোক হওয়া।

মৃত্যুর পরে মানুষের খরচপাতি মোটামুটি দু’হাজার টাকার মধ্যে শেষ করা যায়।মানুষ এই পৃথিবীতে খালি হাতে আসে, আবার বিদায় নিয়ে যাবার সময় শূন্য হাতে যায়।অথচ এর মাঝখানের সময়টা কতকিছু নিজের জন্য, নিজের করে পাবার জন্যে চলে সীমাহীন প্রতিযোগিতা আর রেশারেশি।

মানুষ আজকাল ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। ধৈয্য, সহনশীলতা কমে যাচ্ছে।অন্যের কথা, অন্যের মতামত, অন্যের চিন্তা-ভাবনা এখন আর আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। মুখে আমরা গনতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি বললেও নিজে কিন্তু মোটেও তা বিশ্বাস করি না।বাস্তবে তার প্রয়োগও করি না।কেবল মিথ্যার বেসাতি করে চলেছি আমরা। সবাই সবার সমালোচনা করে চলেছি। কিন্তু নিজেকে অন্যের জায়গায় দেখতে পারি না।দেখতে চাইও না।

অনেক বাংলাদেশী এখন বিদেশে বসে ফেসবুকে নানান জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখেন।তাদের এসব কথা পড়লে মনে হবে, বাংলাদেশের চেয়ে বুঝিবা এমন খারাপ ও ব্যর্থ রাষ্ট্র দুনিয়ায় আর কোথাও নেই।এসব মানুষগুলোই তো একদিন বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে  বিদেশ গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সেসব দেশের নাগরিকত্ব বা গ্রীণকার্ড  পেয়েছিলেন। এখন সেসব দেশগুলোই না’কি সুশাসন, স্বচ্ছতা,মানবাধিকারের দিক থেকে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ।

অনেকে বই লেখেন বিদেশে বসে আবার বাংলাদেশে এসে বই মেলায় নিজেই নিজের প্রচারণা চালান। অনেকের বই শোনা যায় বেস্ট সেলার হয়ে যায়। তাদের এসব নেতিবাচক উচ্চ আকাঙ্খা পুষ্ঠ কথাবার্তা ফেসবুক জুড়ে মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় ‘সহমত ভাই’ সম্মতিতে।

বাংলাদেশের সমস্ত কিছুই খারাপ এমন একটা ধারণাকে কেন্দ্রীয় থিম হিসেবে ঠিক করে উপন্যাসের চরিত্র বানানো হয়। আবার অহরহ ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করা হয় নেতিবাচক এবং আশাহীন কথাবার্তা দিয়ে।এ কেমন দেশপ্রেম তার বিশ্লেষণ কে করবে?

বাক স্বাধীনতার ধুয়া তুলে বাংলাদেশে চলে স্বেচ্ছাচারিতা। আগুনে ঘি ঢালছে ফেসবুক, ইউটিউব, একস, টেলিগ্রামের সব ভুলভাল তথ্য ও প্রতিবেদন। যার যেটা বিষয় নয়, সে সেটা নিয়েও লিখছে।সব বিষয়ের তথাকথিত জ্ঞানীদের সংখ্যা শুধু যে বেড়েই চলেছে তাই নয়, ক্রমশই তা ভয়ংকর রূপ নিতে চলেছে। শাওন ভেবে কোনো কুলকিনারা পায় এর থেকে বাঁচার উপায় কোথায় খুঁজে পাবে সে!  (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog