সাম্প্রতিক প্রকাশনা

সোনার গাঁর মেয়ে

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 415 জন পাঠক।
 সোনার গাঁর মেয়ে

(কাজি আফসার উদ্দিন আহমদ)
২.
পয়মন্ত বাতাসীর দৃষ্টি ছিল তীক্ষ্ম।

তার মধ্যে যা ছিল অদ্ভূত সে হলো যাই করবো সকলের জন্যে, গাঁয়ের সকলের জন্যে।

পাট মওসুমে পাট বিক্রির বেলা দেখা গেল, গাঁয়ের সকল চাষীর বাড়ীর ভিতরকার খবরা খবর তার নখাগ্রে। সকলকে বলে বুঝিয়ে সময়মত গাঁ শুদ্ধ সকলের মোট পাট ছাড়লো সে বাজারে, ফরিয়াদের ফাঁদে পা দিতেই দিলো না বাতাসী।
বাতাসীর কথা চিরকাল ফলছে অক্ষরে অক্ষরে। এবারেও তাই হলো। এক পাট বিক্রির টাকা গাঁয়ের সকলের ভাগ্যে মিললো দু গুণ।

ব্যাপারটিা সহজ নয়। গাঁয়ের ছোটবড় মাতব্বর শ্রেণীর লোকেরাও সকলের সমবেত আয়োজনের ফলাফল লক্ষ্য করে বাতাসীর তৎপরতায়, চাতুর্যে সতর্কতায় চমৎকৃত না হয়ে পারলো না। নিজেদের মধ্যেও, সরকার বৌয়ের আয় বাড়াতেও তার কাজের কমতি নেই।

মুরগির ডিমের বাজার দর হঠাৎ চড়ে গেলো।
বাতাসী বাড়ীর ডিমগুলো গাঁয়ের মধ্যে ব্যাপারীদের হাতে না ছেড়ে ঘাটের নৌকা দিয়ে পাঠালো গঞ্জে হাটে। দুদ্দার করে খুচরো পয়সার স্তুপ জমে গেলো। কিই বা খরচ, অথচ লাভ একেবারে ষোল আনার ওপর।

৩.
গাঁ বলতে সোনার গাঁ নেহাতই ছোট্ট।
চারপাশ দিয়ে নদী আর খাল বয়ে চলেছে।
ধান কাটার সময় এলো। পাড়ার সব বাড়ীতেই কর্ম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সেদিন নঈমুদ্দিন চাচা এলেন সরকার বাড়ী।
কি খবর চাচা?

বাতাসী জিজ্ঞেস করলো।

কিছু নারে। এম্নি এলাম। ধলেশ্বরীর পানির রকমটা একবার দেখিস লক্ষ্য করে মা। আমার কাছে ভালো ঠেকছে না।
নঈমুদ্দিন চাচার মুখে শংকার ভাব। বাতাসী তা খেয়াল করে একটু চিন্তা করলো, তারপর জানতে চাইলো,
ব্যাপারটা কি ভাবছো, চাচা? পানির তোড় বেশি বুঝি?

ঠিক বলেছিস। আর বাড়তিও বেশি। সামাল দেওয়া যাবে তো?
বাতাসী তারই মুখের দিকে চেয়ে আছে দেখে নঈমুদ্দিন চাচা অবশেষে আসল কথায় এলেন।

বললেন,

ভাবছি, গাঁয়ের মাঠঘাট গুলো যেভাবে ডুবছে, সকলের পাকা ধান কটা ঘরে উঠবে তো?
আর বলতে হলো না।

বাতাসী বুঝতে পারলো, আচমকা পানি বাড়ার আশংকায় নঈমুদ্দিন চাচা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন? 
সেও ভাবলো তাইতো কি করা যাবে?

এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা এর আগেও তাকে করতে হয়েছে।
এসব সময়ে সমবেত আয়োজনে সর্ব সাফল্য সম্ভব।
জনমজুর পাওয়া মুশকিল।
সকলেরই কমবেশি জমিজমা রয়েছে।
আলাদা আলাদা চাষবাসে যেমন সময়ও লাগে বেশি, খরচও পড়ে বেশি, তেম্নি ক্ষেত থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে জন মুজুরের খরচ আছে, বিধিব্যবন্থার ধকলও আছে।

কিন্ত ধলেশ্বরীর তোড়ে এখন একাট্টা মিলেমিশে কোমর বেঁধে নেমে গেলে আকস্মিক বানকে কি রুখা যাবে না?
বাতাসীর চোখ দুটো চকচক করে ওঠে।

সরকার বৌ না বলে পারেন না, 

বাতাসী মা, কি হবে এখন উপায়?

উপায় করবেন আল্লাহ, চাচী। তুমি ভেবো না। আমি একবার ওদের আখরাটা হয় আসি। ওরাই তো আসল বল আমাদের। জ্যোৎসা রাত আছে, কাজটা হতে পারে। একটু মেহনত করলেই সব রক্ষা হবে।
সরকার বৌ কিছু বুঝতে পারে না। ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখে বাতাসী তড়িৎ হারিয়ে গেল কলা বাগানের ও পাশটায়। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog