সাম্প্রতিক প্রকাশনা

বাতওয়ালের ক্ষুধা (চতুর্দশ পরিচ্ছেদ) ধারাবহিক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 277 জন পাঠক।
 চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

ঘুম থেকে জেগে উঠে প্রফেসর রব্বানী খানিকটা অবাক হলেন। দেহের কোথাও কোন ক্লান্তিবোধ নেই। তিনি যেন নতুন শক্তি ফিরে পেয়েছেন। সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে ব্যাপার হচ্ছে চোখের সামনে তিনি অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছেন স্পষ্ট তিনি বিভিন্ন তথ্যসহ তার জীবনের নানান ঘটনা স্মরণ করতে পারছেন। চোখের সামনে ভেসে উঠলো পার্বত্য চট্টগ্রামের টংকাবতি রেডিও টেলিস্কোপ অবজারভেটরি। নাহিদের চিন্তাক্লিষ্ট মুখ, এন্ডোমিডা নেব্যুলার টেলিস্কোপিক সিগনাল- সবকিছু প্রফেসর রব্বানীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।

ঠিক সেই মুহূর্তে সম্পূর্ণ নীলাভ গায়ের রংএর একজন মানুষের মতো প্রাণী প্রফেসর সাহেবের সামনে এসে দাঁড়ালো। হতচকিত প্রফেসর সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কে?

আমি স্ট্রং, মঙ্গলগ্রহের একজন জিন প্রযুক্তিবিদ। গ্যালাক্্িরর বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর শারীরিক বিন্যাস বিষয়ক গবেষণা প্রকল্পের প্রধান আমি।

আমাকে এখানে এনেছেন কোন কারণে? প্রফেসর রব্বানী জিজ্ঞাসা করেন।

ভয় নেই প্রফেসর রব্বানী। সামনে আমাদের অনেক বিপদ। এসব বিপদ মোকাবিলার জন্যেই আপনাকে এখানে এনে জেনেটিক কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন করা হয়েছে। এখন থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি চট্টগ্রামের টংকাবতি পৌঁছে যাবেন। আমাদের মহাশূণ্যযান আপনাকে চট্টগ্রামের টংকাবতিতে বিম ডাউন করবে। 

এবার এন্ডোমিডা নেব্যুলার টেলিস্কোপিক সিগনাল সম্পর্কে কিছু কথা বলি আপনাকে। আমরা জানতে পেরেছে যে আপসিলান অ্যারিডিনা সৌরজগতের সতেরোতম গ্রহ মারভিলার সঙ্গে জোট বেঁধে এন্ডোমিডানরা পৃথিবীর কাছকাছি কোথাও একটি গবেষণামূলক আলট্রা সুপার পারমানবিক বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছে। 

এন্ডোমিডা নেব্যুলার সেই টেলিস্কোপিক সিগনাল এসে ধরা পড়েছে টংকাবতি অবজারভেটরিতে। সেই সিগনাল সম্পর্কে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আপনি এবং আমরা জানি। আমরা চাই আপনি এই সিগনাল বিশ্লেষণে কিছুটা গোপনীয়তার আশ্রয় নেবেন। তা না হলে পৃথিবীতে বিশেষত বাংলাদেশে অযথা ভীতির সূত্রপাত হবে। প্রফেসর রব্বানী 

স্ট্রং এর কথায় অবাক হয়ে বললেন, কিন্তু এই পারমানবিক বিস্ফোরণ বন্ধ করা যাবে কিভাবে?
আসলে মারভিলান ও এন্ডোমিডানরা কি করতে চাচ্ছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ সম্পর্কে আরো জানতেই আপনাকে টংকাবতি অবজারভেটরিতে যেতে হবে। অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগেই এ ব্যাপারে আপনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তারা আপনার অপেক্ষায় আছে।

কেমন যেন অস্থির বোধ করেন প্রফেসর রব্বানী। নিজের মনের সঙ্গে অজানা দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হন তিনি। মনটা তার সবসময়ই ভিনগ্রহের প্রাণীদের কার্যকলাপের বিপক্ষে ছিল। তাই স্বাভাবিক কারণেই মঙ্গলগ্রহের জিন প্রযুক্তিবিদ স্পিরমা স্ট্রংকে তিনি সহজভাবে নিতে পারলেন না। প্রফেসর রব্বানীর সেই অস্থিরতা স্পিরমা স্ট্রংকেও ছুঁয়ে যায়। তিনি ইতস্তত বিক্ষিপ্ত রব্বানীকে বললেন, ভিনগ্রহের বহু সভ্যতা রয়েছে পৃথিবীর মানুষের সভ্যতার আঙ্গিকগত বিকাশে। ভুলে যাবেন না মায়া সভ্যতা, আজটেক, ইনকা, রেড ইন্ডিয়ান সভ্যতা ভিনগ্রহের মানুষের স্পর্শেই সমৃদ্ধ হয়েছিল। নিশ্চয়ই আপনারা পৃথিবীর মানুষরা অনেক কিছু জানেন না, যা আমরা জানি। আমাদের বিজ্ঞান, আমাদের প্রযুক্তি, আমাদের জীবনবোধ আপনাদের চেয়ে অনেক অনেক উন্নত। তবু আধিপত্য বিস্তারের যে চেতনা তা মারভিলান ও এন্ডোমিডানদের জেনেটিক বিন্যাস থেকেই মূলত পেয়েছে পৃথিবীর মানুষরা। সেদিক থেকে মঙ্গল গ্রহ ও ভালকানদের জেনেটিক বিন্যাস সম্পূর্ণ আলাদা।

প্রফেসর রব্বানী, আপনার ব্রেনে আমরা কিছু কোষগত পরিবর্তন এনে দিয়েছি। আপনিও ক্রমে ক্রমে ভালকান ও মঙ্গলের প্রাণীদের মতো হয়ে যাবেন। তখন দেখবেন ভিনগ্রহের প্রাণী চিনতে আর ভুল হবে না। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog