সাম্প্রতিক প্রকাশনা

সোনার গাঁর মেয়ে

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 454 জন পাঠক।
 সোনার গাঁর মেয়ে

কাজি আফসার উদ্দিন আহমদ

৪.
আকাশ ভর্তি আলো। আলোময় দিক পারাবার। খণ্ড খণ্ড সাদা মেঘ দল এলোমেলো উড়ছে হারিয়ে যাচ্ছে আকাশের সব প্রান্তে চর্তুদিকে।

মৃদুমন্দ বাতাস মনপ্রাণ জুড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে।

গাঁয়ের জোয়ান মর্দ সকলেই এসে নেমেছে দুপা জমিতে। রাতের মধ্যেই সব ক্ষেতের ধান কেটে নিয়ে তুলতে হবে আখড়ার উঠোনে, তারপর কাল ভোরে যার যার আঁটি নিয়ে তুলবে ঘরে।

ওদিকে এ্যাজমাইলি ব্যবস্থায় বাতাসী রাঁধছে খিচুরী চালে ডালে কাঁচা লঙ্কায়। সকলের মুখপেট ভরিয়ে দেবে সে- বাজী  ধরে যারা খেতে চাইবে, তাদেরও শখ মিটিয়ে দেবে। রাঁধছে মেলাই। এই সংবাদে ছোকড়াদের মধ্যে লেগেছে দূরন্ত রেশারেশি।

তক্কেতক্কে রয়েছে ওরাই। রাত দুপুর হবার আগেই সারা দুপা জমির ধানক্ষেত বেবাক সাফ করে কেটে আনতেই হবে।

নয়া পানি নয়া বাতাস
মিঠা আলো ঝাড়ে, 
কোন গেরামে কন্যা তোমার
যৈবন জোয়ার বাড়ে
সহর্ষে সতেজে গীত গায় সকলেই।

৫.
ধলেশ্বরী পরদিন সকালের মধ্যে ফেনপুঞ্জ সতেজ মারমূর্তিতে সত্যিসত্যি সোনার গাঁর দুপা জমি গিলে ফেললো। গড়িয়ে গড়িয়ে বালূমেশানো ঘোলাটে অফুরন্ত পানির খরস্রোত উথালপাথাল লাগিয়েছে। কে বলবে গতকাল সন্ধ্যের  দিকে ধলেশ্বরী  ওই দুপা জমিতে হাসছিলো খেলছিলো ছলছলিয়ে। আজ সেখানে নদীটা যেন ভেঙ্গে এসে ঢুকে পড়েছে অথৈ আর অফুরন্ত পানি নিয়ে।

বাতাসী মেয়েটার উপস্থিত বুদ্ধি আর মনোবলই আসল। নঈমুদ্দিন চাচাও তাই বলেন।
বাতাসী ঘুরে ফিরে একবার দুপা জমি দেখে। জমি তো আর সে দেখে আসতে পারলো না।  শুধু পানি আর পানি। বালু ভর্তি ঘোলা পানিতে চরাচর যেন ডুবে গেছে।

চোখে দেখতে ভয় লাগে। পানির উপরটায় ঢেউগুলো এম্নি উন্মত্ত নর্তন শুরু করে দিয়েছে। ও দিকটায় আকাশ কোথায় গিয়ে মিশেছে চোখেই পড়ে না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাতাসী তবু খানিকক্ষণ দেখলো তাই। 
দৃষ্টি ফেরাতেই তার চোখ আটকে গেলো গাঁয়ের কলাপাতা রঙ আর রঙের ওপর, মুনশীপাড়ার কলাবাগানের ওপরে আকাশ জুড়ে কালো মেঘ পুঞ্জ পুঞ্জ জমে উঠেছে।

কী উৎকট বীভৎসরূপ তার। যেন প্রবল বর্ষণ হবে। এদিকে ধলেশ্বরীতে প্রবল জলস্ফীতি অন্যদিকে তীব্র বর্ষণ সম্ভাবনায় বাতাসীর বুঝতে আর বাকী রইলো না। নঈমুদ্দিন চাচা গতকাল সর্তক না করলে আজ পানিতে বর্ষণে সকলকে হেসেকেঁদে একাকার হতে হতো।

সহসা তার মনে পড়লো ‘কী ভুলো মন আমার। মানুষের সাধ্য কি দুর্বিপাকের মুখোমুখি হয়। আল্লাহই রহমানুর রহীম। আল্লাহই সকলকে বাঁচার শক্তি দেন। সব রক্ষা করেন সর্ব শক্তিমান আল্লাহ। তিনি মানুষের মিলিত প্রচেষ্টাকে কখনও ব্যর্থ হতে দেন না।

বাতাসী দ্রুতপায়ে সরকার বাড়ীর দিকে ফিরে চললো।
আকাশে তখন গুরু গুরু দ্রিম দ্রিম আওয়াজ উঠছে, উঠছেই।

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog