সাম্প্রতিক প্রকাশনা

ইয়াসমীন হয়ে যায় বিপ্লবের ওপর এক নাম

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 427 জন পাঠক।
 ইয়াসমীন হয়ে যায় বিপ্লবের ওপর এক নাম

(১)

কমরেডগণ,
ভ্যান গাড়িতে পরে থাকা ঐ মেয়েটিকে আপনারা কি চেনেন?
দশ মাইলের মোড়ে হারিয়ে গেছে সে মায়ের কোল থেকে,
ইয়াসমীন,
কেমন যেনো স্বপ্নিল একটি নাম।
কেমন যেনো ভালবাসা মাখা।
কেমন যেনো মমতা ভরা নাম
কিন্তুু মেয়েটা ইতিহাস হয়ে গেলো.....
দশ মাইলের মোড়ে হারিয়ে গেল মায়ের কোল থেকে।
সবাই যখন শেষ রাতের ঘুমের ঘোরে ঢাকা এবং দিনাজপুরে।
রাত আর দিন যখন পরস্পরকে ছুঁয়ে আসে 
তখনই
ঠিক তখনই ঘাতক , হিংস্র কিছু মানুষ অথবা পুরুষ
ক্ষত-বিক্ষত করলো ইয়াসমীন নামের সুন্দর গোলাপটিকে।।
ভ্যান গাড়িতে পুলিশ রূপী শয়তান এসেছিলো
ওরা সংখ্যায় কত জন?
ওরা যে অজস্র , ওরা যে হাজারে হাজার ।
মাত্র তিন জন নয় ওরা।
ওরা আইনের পোশাক পড়ে নগ্ন করলো
আমাদের সহস্র বছরের ঐতিহ্যকে, আমাদের আইনকে ওরা নগ্ন করলো 
ওরা নগ্ন করলো আমাদের সমাজকে।
শেষ পর্যন্ত ওরা নগ্ন করলো, হিংস্রভাবে ছিঁঢ়ে খুড়ে ফেললো আমাদের লক্ষী বোনদের।
আমাদের লজ্জা, 
অমাদের সম্ভ্রম
আমাদের কৃষ্টিকে ওরা রক্তাক্ত করলো।
আমাদের বোনের রক্তে সারা দেশ আর মানচিত্র আবারও ভিজে গেলো।
সেই ভেজা রক্ত শত সহস্র অগ্নিমালায় দিনাজপুরে জাগিয়ে গেলো সাত ভাই চম্পাকে।
জাগিয়ে গেল গোটা জনপদকে।
এসব হিংস্র পশুকে কেন এ দেশের মানুষ এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে???
কেন ভোরের আলো ফোটার আগে ইয়াসমীন রক্তাক্ত হয়ে গেলো??
মমতায় ভেজা গাঢ় চোখে
ইয়াসমীন বুঝি দেখতে চেয়েছিলো শেষবারের মতো তার মামনিকে
তার পবিত্র দেহকে মৃত্যুর শীতল বাহু স্পর্শ করার আগে
ইয়াসমিনের রক্তে ভেজা ঠোঁট দু‘টি প্রতিবাদে জ্বলে ওঠতে চেয়েছিলো যে ভাষায়-
তাই কি গণ বিদ্রোহ?
সাত- সাতটি প্রাণের গভীরতম প্রতিবাদ সমুদ্রকে উত্তাল করে
প্রকৃতিতে ক্র্দ্ধু করে ঝড় এনে দিয়েছিলো সেদিন-
এখন শিশির ভেজা মাঠ একাকী জেগে থাকে-
এখন মা শুধু বিন্নি ধানের খই বানিয়ে অপেক্ষা করে,
গাবতলী, দশমাইল, দিনাজপুর, চুয়াডাঙ্গা, সাভার ব্রীজ, তেঁতুলিয়া, টেকনাফ ল্যান্ডিং এর লাল আলো জ্বেলে কোন বৈমানিকের অপেক্ষায় থাকে?

(২)

কমরেডগণ,
ইয়াসমীন আমাদের স্নেহের বোন,
ইয়াসমীন তুমি আমাদের মায়ের কোমল অনুপম হৃয়ানুভূতি,
আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ ভরসা তুমি।
ইয়াসমীনের জন্য বাংলাদেশের মাটির গভীরে ক্রমশ বারে ভালোবাসার নিবিড় শেকড়।
সবুজ বনানী,পাহাড়ী ঝরনা,
নীলকণ্ঠ পাখি আর আমাদের হৃদয় ছোঁয়া কোন দীর্ঘ নদী
হোক না সে মধুমতী, তিস্তা, করতোয়া যা খুশি।
তবু জানি সুখ- দুঃখ ভালোবাসা বেদনায়, 
সব নদী একাকার হয়ে হয় একটি নাম, একটি নাম ‘ইয়াসমীন’।
ইয়াসমীন তারপর,
আমাদের সমস্ত অস্তিত্বে ঝাঁকুনি লাগায়,
সমস্ত বিশ্বাসে, ভালোবাসায় কাঁপুনি লাগে।
সমাজের স্থূল বোধে জেগে ওঠে ক্রোধ,
জেড়ে ওঠে তারুণ্য, সাহসী এক প্রজন্ম যেন গণ অভ্যুত্থান করে।
অবহেলা
অপমানে
ক্রোধ
ধমনীতে তুমুল রক্ত স্রোত প্রবাহিত করে চেতনার তারুণ্যকে তীক্ষ¥ করে আঘাতে আঘাতে-
জেগে ওঠে সাহসী প্রজন্ম নতুন প্রত্যয়ে
জাগে সাহসী সময়,
জাগে অবুঝ মমতা
আর স্নেহ-
তারপর-
‘ইয়াসমীন’ হয়ে যায়
বিপ্লব
গ্রামে গ্রামে
নগরে নগরে
ইয়াসমীন বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে যায়।।

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog