প্রাণীরা কি আমাদেরকে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দিতে পারে?

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 781 জন পাঠক।
 বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের আওতাভূক্ত এলাকায় অবস্থিত। কিন্তু বিগত ৭০-৮০ বছরে এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প না হওয়াতে এদেশের মানুষ ভূমিকম্পের কথা প্রায় ভুলতে বসেছে। মাঝে মধ্যে প্রতিবেশী ভারতে কোনো বড় ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব এখানেও এসে পড়ে। কিছুদিন চলে একটু ভয়ভীতি পূর্ণ অবস্থা তারপর যে বাহান্ন সেই তেপান্ন অবস্থা দাঁড়ায়।

ইদানিং দেশে বিদেশে ভূ-বিজ্ঞানীরা আশংকা করছেন যে বাংলাদেশ ও এর সন্নিহিত অঞ্চলে একটি বড় ধরনের বিধ্বসী ভূমিকম্প আসছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একটি বড় ধরনের বিধ্বসী ভূমিকম্পের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো সময় এ ভূমিকম্প হতে পারে। গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ছাড়াও গত কিছুদিন ধরে এ অঞ্চলে ঘন ঘন সংঘটিত ছোটমাপের ভূমিকম্পগুলো তারই ইঙ্গিত বহন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশী এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞদেরও অভিমত এমনি ধরনের। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত আমেরিকান ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস ) এবং ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক জরিপের ( জিএসআই ) বিভিন্ন তথ্য থেকে সম্প্রতি এ খবর জানা গেছে।

পৃথিবীর শিলাস্তর ও ভূমিকম্প বিষয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি বলেছেন যে, বাংলাদেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুরের উত্তরাঞ্চলে কিছুদিন ধরে ঘন ঘন ছোট মাপের যে ভূমিকম্প হচ্ছে সেগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্পের ইঙ্গিতবহন করছে। তবে আমাদের দেশে প্রয়োজনীয় ভূতাত্ত্বিক (সিসমিক) স্টেশন না থাকায় এ কম্পনগুলোর উৎপত্তিস্থল বা গতিবিধি সম্পর্কে আমরা জানতে পারছি না। 

ইউএসজি এবং জিএসআই থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় যে, বিগত একমাসেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার টেকটোনিক প্লেট ও সাবপ্লেটগুলো খুবই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এখন। জাভা, সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যন্ড ও মিয়ানমারে প্রতি সপ্তাহে এমনকি সপ্তাহে একাধিকবারও ভূমিকম্প হচ্ছে। চট্টগ্রামে যে ভূকম্পনগুলো রেকর্র্ড করা হয় সেগুলো বার্মিজ ও আন্দামান নিকোবর প্লেটের সঞ্চরণের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের কাছে বড় চিন্তার কারণ হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত রংপুরের ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি। কারণ এটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিস্তা চ্যুতি। এ চ্যুতিটি এ অঞ্চলের বেশকটি বিপর্যয়কর ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত। তা’ছাড়া হিমালয়ান প্লেটের সঙ্গে ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণেও এ অঞ্চলে ভূমিকম্প হতে পারে। আর তা হলে দুশ্চিন্তার কারণ সবচেয়ে বেশি হবে, কারণ তা বিপর্যকর ধ্বংস ডেকে আনবে।

রজার বিলহাম এবং পিটার মনার এর গবেষণা

সম্প্রতি যুক্তরাস্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিজ্ঞানের অধ্যাপক রজার বিলহাম ও পিটার মনার এ উপমহাদেশের কয়েকজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এ গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয় ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে।  এতে বলা হয়, প্রায় ২ হাজার কিলোমিটারব্যাপী হিমালয়ান চ্যুতির অভ্যন্তরে প্রচ- চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনো সময় রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ১ থেকে ৮ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। মারাতœক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতে পারে ঢাকা, কলকাতা, দিল্লি, কাঠমুন্ডু, ইসলামাবাদ ও এর সন্নিহিত বড় শহরগুলোতে।

এ রিপোর্টে আরও উেেল্লখ করা হয় যে, অবিরাম সঞ্চরণ প্রক্রিয়ায় হিমালয়ান প্লেটের সঙ্গে ভারতীয় প্লেটটি সংযুক্ত হয়ে একটি ‘টেকটোনিক লক’ সৃষ্টি করেছে। প্লেটদুটির পারস্পরিক চাপে এ লক যখন খুলে যাবে তখনই ঘটবে সে বিপর্যয়কর ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এ লকটি যেকোনো সময়ই খুলে যেতে পারে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের লক এবারই প্রথম সৃষ্টি হয়নি, এর পূর্বেও হয়েছে। আর সে লক খুলে যাবার ফলেই উৎপত্তি হয়েছিল ১৮৩৩, ১৮৮৫, ১৮৯৭, ১৯০৫, ১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৪৭ এবং ১৯৫০ সালের ভয়াবহ সব ভূমিকম্পের। এমনকি ১৮০৩ সালের প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পের উৎপত্তিও এখানে বলেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। অবশ্য এ ধারণার পক্ষে তারা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারেননি। ভূতাত্বিকদের মতে ঘনঘন মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভুমিকম্প ফিরে আসে। ১৮৯৭ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ধলেশ্বরী চ্যুতির কারণে। একই কারণে ১৩০ বছর পর এ অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। ভূতাত্বিকদের মতে এ আশংকা ৯৫%। তবে বাংলাদেশ আর্থকোয়ার্ক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রকৌল বিশ্ববিদ্যাণয়ের শিক্ষক ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, দেশে ছোট ছোট ভূমিকম্প অনুভুত হওয়ার পেছনে দুটি তত্ত্ব কাজ করে। একটি হলো এটা বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। দ্বিতীয়টি হলো- বড় ভূমিকম্প নাও হতে পারে। তবে নানা লক্ষণে বোঝা যায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে দেশের পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়তোবা আঘাত হানতে পারে।

অবশ্য ভূতত্ত্¦বিদ ড. হোসেন মনসুর মনে করেন ভূতাত্ত্বিক গঠনের দিক দিয়ে ঢাকার কাছাকাছি ভূ-কম্পনের কেন্দ্রস্থল না থাকায় ঢাকা শহর ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ঢাকায় বড় ধরনের কোন ভূমিকম্পের নজিরও নেই। তবে রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে ঢাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে ব্যাপক। কারণ এখানে ব্লিডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করে ও অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর বানিয়ে ঢাকাকে একটি ঘিঞ্জি নগরে পরিণত করা হয়েছে। তিনি মধুপুর ফল্ট, যমুনা ফল্ট এবং বংশীতে চ্যুতির বিষয়টিও বাস্তবতা বর্জিত বলে দাবি করেন। প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরির মতে, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের কারণে বড় বিপর্যয়ের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যদিও নেই, তারপরও ভূমিকম্প হঠাৎ আসতেই পারে। তিনি ভূমিকম্পের একশ-  দেড়শ বছরের সাইকেল তত্ত্বটিও বিশ্বাস করেন না।

সম্প্রতি ‘টাইম প্রেডিক্টেবল ফল্ট মডেলিং ফর সিসমিক হ্যাজার্ড এন্ড ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক গবেষণায় যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে বলা হয়েছে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বড় মাপের অর্থাৎ রিখটার স্কেলে সাড়ে সাত মাত্রা বা তার ওপরে ভূমিকম্প আঘাত হানার আশংকা কম। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে অতীতে যেসব ভূচ্যুতি বাংলাদেশ ও এর সন্নিহিত অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল, সেগুলোর কোনটি থেকেই আগামী ১০০ বছরেও বিধ্বংসী কোনো ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। উল্লেখ্য যে, দেশের ভেতরের ও সন্নিহিত এলাকার টেকটোনিক প্লেট বাউন্ডারির চ্যুতি থেকে সৃষ্ট ভূমিকম্পের আংশকা নিয়ে এধরনের গবেষণা বাংলাদেশে এই প্র্রথম। বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) অধীনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি’র আর্থিক সহায়তায় গবেষনাটি করেছেন জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের একদল বিশেষজ্ঞ গবেষক।

অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল গবেষণাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করেছেন। গবেষণাটি তত্ত্ববধান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও সিডিএমপির জাতীয় বিশেষজ্ঞ এএসএম মাকসুদ কামাল।

গবেষকরা বাংলাদেশ- সংলগ্ন প্লেট সীমান্তের চ্যুতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন- পিবিএফ-১, পিবিএফ-২ ও পিবিএফ-৩। এই চ্যুতিগুলোতে বড় ভূমিকম্প হলে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্লেট সীমান্ত ছাড়া দেশের ভেতরে অন্তত দুটি বড় সক্রিয় চ্যুতি রয়েছে। একটি ডাউটি চ্যুতি, অপরটি মধুপুর চ্যুতি রয়েছে। মধুপুর চ্যুতি ঢাকার জন্য বিপদজনক। অতীতে প্লেট সীমান্ত ও এই দুটি চ্যুতি থেকে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতেও হতে পারে। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল এটা নির্ধারণ করা যে ‘কবে হতে পারে’ কোন বড় ধরনের ভূমিকম্প। এজন্য উপুুরিউক্ত পাঁচটি চ্যুতির প্রতিটির ভিন্ন ভিন্ন ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ করে তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, প্লেট সীমান্ত চ্যুতির তিনটি অংশেরই রেফারেন্স পিরিয়ড ৯০০ বছর। 

গবেষণার তথ্যানুযায়ী পিবিএফ-১ থেকে সর্বশেষ বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়েছিল ২৪৬ বছর আগে। পিবিএফ-২ ও পিবিএফ-৩ থেকে হয়েছিল ৫০৮ বছর আগে। কাজেই রেফারেন্স পিরিয়ড (৯০০ বছর) শেষ হয়ে এসব চ্যুতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিধ্বংসী ভূমিকম্প বা ক্যারেক্টারস্টিক আর্থকোয়েক সৃষ্টি হতে এখনো অনেক সময় বাকি। ডাউকি চ্যুতিতে সর্বশেষ বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৯৭ সালে, এখন থেকে ১১৩ বছর আগে। গবেষণায় নির্ধারিত এই চ্যুতির রেফারেন্স প্রায় ৩৪৯ বছর। মধুপুর চ্যুতিতে সর্বশেষ বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৮৫ সালে, এখন থেকে প্রায় ১২৫ বছর আগে। এই চ্যুতির রেফারেন্স পিরিয়ড ৩৫০ বছর। তাই গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এই দুটি চ্যুতিতে আগামী ২২৫ থেকে ২৫০ বছরের মধ্যে অতীতের মতো বিধ্বংসী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার আশংকা নেই।

তবে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেফারেন্স পিরিয়ডের মধ্যবর্তী প্রতি ২০ বছর পরপর এসব চ্যুতি থেকে ছয় মাত্রার কাছাকাছি পর্যন্ত ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণার ভাষায় এগুলোকে বলা হয়েছে  ওই সব চ্যুতির ‘নন-ক্যারেক্টারস্টিক ভূমিকম্প। ডাউকি চ্যুতিতে এধরনের ছয়মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলের জন্য এবং মধুপুর চ্যুতিতে হলে তা টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও ঢাকার জন্য ধ্বংসাত্বক হতে পারে। তবে জাতীয় গৃহনির্মাণ বিধিমালা মেনে ভবন তৈরি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এধরনের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত রাখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা মনে করেন।

হয়তোবা বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের আংশকা কম। তবে মৃদু যেসব ভূমিকম্প হচ্ছে এবং মাঝারি যেসব ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেগুলোর মোকাবিলায় আমাদেও প্রস্তুতি নিতে হবে। এ প্রস্তুতি হতে হবে তিনধরনের। প্রথমত: মানসম্পন্ন ভবন নির্মাণ, দ্বিতীয়ত: ভূমিকম্প হলে করনীয় বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি এবং তৃতীয়ত: সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলার সামর্থ্য অর্জন করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে ভূমিকম্পের আশংকা। তবে ভূতাত্ত্বিকদের ধারণা বাংলাদেশে ভূমিকম্পের তীব্রতা খুব একটা প্রবল হবে না। তারা বলছেন শীঘ্রই ইন্দোনেশিয়ায় আবারও ভূমিকম্পের আশংকা রয়েছে। আর তারই প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশেও ভূমিকম্প অনুভুত হতে পারে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া একই ভূতাত্ত্বিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রায় ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে গোটা বাংলাদেশ দু’দফা কেঁপে উঠেছিল। ভূ-তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মহানগরী একটি সরল ভূখ-ের ওপর গঠিত। পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে এখানে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব। কিন্তু এ শহরের বহু ইমারতের ভিত্তি তৈরি হয়েছে দুর্বল মাটির ওপর। অনেকক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী বা ভূতাত্ত্বিকের পরামর্শ ছাড়াই গড়ে উঠেছে বিশাল ইমারত। ফলে রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার একটি মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্পেও আমাদের শহরের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হল বগুরা, কুড়িগ্রাম, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও বৃহত্তর সিলেট। সিলেট সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন- সেখানে রিখটার স্কেলে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। আমরা যে একেবারে ভূমিকম্পের আশংকার উর্ধ্বে নই- তার প্রমাণ বিগত কয়েক বছরের হিসাবই প্রমাণ করে দেয়। 

শহরের মানুষ ভূমিকম্পের সবচেয়ে সহজ শিকার। ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা সবই সেখানে বেশি হয়। ঢাকা মহানগরী সে অর্থে এক মহাবিপদজনক এলাকা এখন। এ শহরের অবস্থার ‘মধ্য ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকায় তবে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এ শহর, বিশেষত এর পুরাতন এলাকা। পুরানো ঢাকার অনেক এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৮০ হাজার লোক বসবাস করে।

সাধারণত ঢাকার বাড়িগুলো দু’ধরনের- নিচ থেকে কনক্রিটের বিম দিয়ে  তৈরি বা ইটের বিম দিয়ে বানানো।  অধিকাংশ মালিকরাই বাড়ি করার সময় দু’টি নকশা করেন- একটি শুধু প¬্যান পাশ করানোর জন্য এবং অন্যটি আসল বাড়ি করার জন্য। ফলে দেখা যায় শহরের ৯০ ভাগ বাড়ির সঙ্গে তার মূল নকশার কোনো মিল নেই। আবার বাড়ি বানাবার পূর্বে মাটি পরীক্ষার যে নিয়ম রয়েছে সেক্ষেত্রেও মালিকরা ২০-৩০ হাজার টাকায় নমুনা পরীক্ষা না করিয়ে ৪-৫ হাজার টাকা দিয়ে সার্টিফিকেটটি সংগ্রহ করেন মাত্র।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ বুয়েটের ড. মেহেদী আহমদের হিসেব মতে, ঢাকায় যদি ৬ রিখটার স্কেল মাত্রার কম্পন হয় তবে রডের অবকাঠামোতে ঢালাই দেয়া ৬-৭ হাজার বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়বে। আর শুধু ইটের ঢালাইয়ে তৈরি বাড়ি ধ্বংস হবে আরও কয়েকগুণ বেশি। কম্পনের মাত্রা যদি ৭ এর বেশি হয় তা’হলে প্রথম ধরনের বিল্ডিংই ধ্বংস হবে প্রায় ২০ হাজারের মত।

সাত রিখতার স্কেলে ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৩০ শতাংশ বাড়িঘর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে এবং বাদবাকি ৭০ ভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভূমিকম্পে শহরাঞ্চলে বেশি ঝুঁকির আরেকটি কারণ হলো বাড়ির বারান্দাগুলো গ্রিল দিয়ে ঘেরাও থাকায় ভেঙে পড়লে তা থেকে মানুষ বেরও হতে পারবে না।

ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর জরিপ চালিয়ে দেখেছে যে, ঢাকার পূর্বাঞ্চল, রামপুরা, বেগুনবাড়ি, বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ দিক, টঙ্গী খালের উত্তর দিক ইত্যাদি এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিভাগ ঢাকার ২ হাজার ভবনকে বসবাসের জন্য ‘অনিরাপদ’ বলে অভিহিত করেছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট সম্পর্কেও অনুরূপ কথা বলা যায়। সিলেট একদিক থেকে ‘প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, অন্যদিকে সিলেটের বাড়িঘর তৈরিতে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রকৌশলগত কোনো নিয়মকানুন মানা হয় না। ১৮৯৭ সালে আসাম ও সন্নিহিত এলাকায় যে ভূমিকম্প হয়েছিল তাতে সিলেটের ৯০ ভাগ ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছিল।

উল্লেখ্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট- সর্বত্র ইদানিং জলাশয় ভরাট করে সুউচ্চ দালান করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে- ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিবেচনায় তা খুবই বিপজ্জনক। এগুলোর ভিত্তিতে সামান্য ক্রটি থাকলে তা ভেঙে পড়বে। তবুও আশার কথা হল ঢাকার অধিকাংশ ভবনই শক্ত লাল মাটিতে রয়েছে,  দ্বিতীয়ত, ঢাকার ভরাট করা অংশে এখনো তুলনামূলকভাবে অনেক কমসংখ্যক উচুঁ ভবন রয়েছে। এ জন্য বর্তমানে ঝুঁকির পরিমাণ কিছুটা হলেও কম বলা যায়।

বাংলাদেশের ভূবিজ্ঞানী ড: খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতে, ঢাকা অবস্থান করছে একটি নাজুক অবস্থানে। কেননা ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি এবং নগরীর নির্মিত অধিকাংশ বিল্ডিং ভূমিকম্পের কোড না মেনে তৈরি করা হয়। তাই ঢাকায় ৫ থেকে ৬ রিকটার স্কেল তীব্রতায় কোন ভূমিকম্প মধ্যরাতে অথবা শেষরাতে আঘাত হানলেই ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ নিহত হতে পারে বলে ড: হোসেন তার আশংকা ব্যক্ত করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ভূমিকম্প নিয়ে আমেরিকা এবং ইতালিতে গবেষণা করেছেন। কারণ আমাদের দেশে তথ্য উপাত্তের বড়ই অভাব। নেই বললেই চলে। ভূতত্ত্ব নিয়ে বিষয়ে  ংঃৎঁপঃঁৎধষ ধহধষুংরং এর নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে ড: হোসেনের নামানুসারে “ঐড়ংংধরহং গবঃযড়ফ ড়ভ ঊীঃবহঃরড়হ” পদ্ধতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। তার মৌলিক গবেষণালব্ধ তথ্য মতে বাংলাদেশের উত্তরাংশের মরফেটেকটোনিক আচরণ প্রমাণ করে যে, ডাউকি চ্যুতি এবং শিলং মালভূমির উত্থানে এটি প্রভাবিত হয়। বড় ধরনের ভুমিকম্পের ফিরে আসার গড় সময়ের অনুপাতে এ শতকের শেষের দিকে ডাউকি চ্যুতিতেও ১৮৯৭ সালের মতো ভূমিকম্প হতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট এবং মায়ানমারের সঙ্গে প্লেটের কোনো সরণ অনেকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ এ দুটি প্লেট কোথাও আটকে রয়েছে। এমন অবস্থা কোনো শক্তিশালী ভূমিকম্পের পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। তাই যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রলয়ংকরী ধ্বংসযজ্ঞ।

শহরাঞ্চলে ভূমিকম্প হলে মানুষ বেশি মরে সাধারণত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ইত্যাদির লাইন থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনার কারণে। তিতাস গ্যাসের দেয়া তথ্য মতে, ঢাকার আবাসিক চুলার ৯৫ শতাংশ রাত-দিন জ্বালিয়ে রাখতে হয়- যা খুবই বিপজ্জনক। এ কারণে ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৩০ ভাগ এলাকায় আগুন ধরে যাবে। বিগত শতাব্দীতেও দেখা গেছে যে শহরাঞ্চলে যতগুলো ভূমিকম্প হয়েছে তার সবগুলোতেই মানুষ এভাবে মারা গেছে। অতত্রব আমাদের সতর্ক হবার সময় এসেছে। 

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়। একে এড়িয়ে যাওয়া হয়তো সম্ভব নয়। তবে আমরা একটু সতর্ক হলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগে থেকেই নিয়ে রাখতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানী অনেক কমিয়ে আনা যাবে। আমাদের হাতে সময় খুবই কম। তাই এ ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার এক্ষেত্রে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা এখনও অপ্রতুল। আসলে ভূমিকম্প হলে তা চলাকালীন আমাদের কী করতে হবে, ভূমিকম্প পরবর্তী কার কী ভূমিকা হবে তাই এখনও আমরা জানি না। জনসচেতনতা বাড়াতে এক্ষেত্রে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাসহ মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন ভবন তৈরি করতে গেলে তা ভূমিকম্পসহনশীল করে বানাতে হবে। আর বিদ্যমান ভবনসমূহও যতদূর সম্ভব ভূমিকম্পসহনশীল করে তুলতে হবে।

প্রাণীরা কী আমাদের ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দিয়ে সতর্ক করতে পারে?

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, ভূমিকম্পের আগাম বার্তা বা পূর্বাভাস প্রাণীরা পেয়ে থাকে। এ ধরনের পর্যবেক্ষণের প্রথম সত্যতা মেলে ৯০’ এর দশকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের এক উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহরে ভূমিকম্পের আগে। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ভূমিকম্পের আগে কুকুড়গুলো দিনরাত ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করতো। বিড়াল, ইঁদুর বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। আস্তাবলে ঘোড়া ও গোয়াল ঘরে গরুকে বেঁধে রাখা যায়নি। পুকুরের পানির উপরিভাগে  মাছগুলো লাফালাফি করছিল। কেউ তখন এর বিশেষ গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি। কিন্তু পরবর্তী ৩০ ঘন্টার মধ্যে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের কারণে বিজ্ঞানীরা ব্যাপারটিকে আমলে আনলেন। এর পরবর্তীতে চীন ও আমেরিকাতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি প্রলয়ংকরী ভূকম্পনের পূর্বে পশু-পাখির তথা প্রাণীকুলের অবস্থা ও চালচলনের পর্যবেক্ষণে একথা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, প্রাণীরা ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পেয়ে থাকে। 

প্রাণীকূলের ব্যতিক্রমী আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন এটি কি কোনো আকস্মিক ঘটনার মিল, কোনো কাকতালীয় ঘটনা নাকি ভূমিকম্পের সাথে এদের কোন সম্পৃক্ততা আছে? কিন্তু অলৌকিভাবে প্রাণীকুল যদি ভূকম্পনের পূর্বাভাস পেয়েই থাকে, তবে এক্ষেত্রে এদের ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক এক সফলতার নজির হিসেবে। এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ‘পাল্প ¯িপ্রং’ এলাকাকে পরীক্ষামূলক অঞ্চল হিসেবে টার্গেট করে একদল বিজ্ঞানী তাঁদের পর্যবেক্ষণ চালান। উল্লেখ্য, এ ‘পাল্প ¯িপ্রং’ অঞ্চলটি হচ্ছে বিশ্বে ভয়াবহ ভূকম্পন অঞ্চলের একটি কার্যকর ভূখন্ড। পর্যবেক্ষণে এ অঞ্চলের কিছু ইঁদুর ও ক্যাঙ্গারু  ব্যবহার করা হয়, যারা ভূগর্ভে বাস করে এবং চলাচল করে সমুদ্রপথে। এদের বাস সমুদ্রগর্ভে হলেও চলাচল এবং বাস প্রাকৃতিক আবাসের মতোই। বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম পদ্ধতিতে ক্যাঙ্গারুর জন্য ঘরের ভেতরে বাস উপযোগী খাঁচা আর ইঁদুরের চলাচলের রাস্তায় খাঁচার মতো প্রকোষ্ঠ তৈরি করেন। এক পর্যায়ে দেখা যায়, খাঁচা থেকে ক্যাঙ্গারুগুলো বেরিয়ে যাবার সংকেত দিচ্ছে আর ইঁদুররা বেরিয়ে আসে খাঁচার মতো গর্ত থেকে। মধ্য মার্চের এক সময়ে এ দুটি প্রাণী প্রজাতির এ রকম অস্বাভাবিক আচরণের পরপরই এ ‘পাল্প ¯িপ্রং’ অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা তাঁদের এ পর্যবেক্ষণ সাফল্য সেলিব্রেট করেন এ মন্তব্য দিয়ে যে, ভূমিকম্পের পূর্বে ভুগর্ভস্থ অঞ্চলে গরম হাওয়া অনুভূতিপ্রবণ প্রাণীকূলকে স্পর্শ করে। 

এছাড়াও মার্কিন অঞ্চলের লসএঞ্জেলেস কাউন্টি, সানফ্রান্সিকোর সমুদ্র অঞ্চল এবং হামবোটের কার্যকরী ভূকম্পন এলাকায় প্রায় দু’সহস্রাধিক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত এক জরিপ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত হয় যে, প্রাণীরা ভূমিকম্পের আগাম আভাস পেয়ে থাকে। 

এ পর্যায়ে উক্ত অঞ্চলসমূহে সংঘটিত তেরটি ভূমিকম্পের পূর্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা যে খবর সংগ্রহ করেছেন তাতে গর্ত থেকে ইঁদুর ও পিঁপড়া বেরিয়ে আসা, গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়া, ক্রোধান্বিত মা মুরগির হাতে বাচ্চা নিধন এবং জলাশয়ের পানির উপরিভাগে মাছের অবিরাম লাফালাফিতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রমাণ মেলে। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, পরীক্ষিত অঞ্চলের লোকজনের কাছ থেকে ভুমিকম্পের পূর্ববর্তী তিন সপ্তাহে দিনে গড়ে একটি করে ফোন আসে বিভিন্ন  প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণের সংবাদ নিয়ে যা পর্যবেক্ষণের জন্য পূর্বেই নগরবাসীদের জ্ঞাত করা ছিল। তাহলে কথা হচ্ছে, ভূকম্পনের পূর্বাভাসের জন্য আমরা প্রাণীজগতের শ্রেষ্ঠত্বকে মূল্যায়ন করে এর প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতির জন্য কি এদের ব্যবহার করতে পারি? এখনও এ বিষয়টি সেভাবে ভাবা হয়নি, কারণ জীবন নিয়ে তো আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ চলে না! তবে এক্ষেত্রে আরও গবেষণার দরকার রয়েছে। বাংলাদেশের ভূবিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে কাজে লাগাতে আরও গবেষণা করে দেখতে পারেন।

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog