বাতওয়ালের ক্ষুধা বাতওয়ালের ক্ষুধা (ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকসন বা বিজ্ঞান কল্প কাহিনী)(পঞ্চম পরিচ্ছেদ)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 70 জন পাঠক।
 পঞ্চম পরিচ্ছেদ

বাইরেটা প্রচন্ড ঠান্ডা। চারদিকে   সাদা রাতের শিশির যেন বরফের মতো। আবহাওয়ার এ এক আশ্চর্য পরিবর্তন। আন্তঃমহাদেশীয় চুক্তি অনুসারে অবশ্য নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে গ্রিণ হাউস অ্যাফেক্ট আর ওজোন স্তরের ক্ষয়-ক্ষতি। তবুও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে আবহাওয়াকে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না। মহাদেশীয় বিজ্ঞানীরা অবশ্য সৌর কলংককে ওজোন স্তর হ্রাসের কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। সবচেয়ে বেশি সৌর কলংককের সময় সূর্যের সক্রিয়তা হ্রাস পায় বলে সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণ কমে যায়। ফলে সে সময়টায় ওজোনের সৃষ্টি কমে যায়। আবহাওয়ার এ পরিবর্তন বিজ্ঞানীরা ঠেকিয়ে রাখতে পারছেন না। তবে চেষ্টা চলছে।

ভোর হয় পার্বত্য এলাকায়। জোসেফ আর নাহিদ আজ একই সঙ্গে ঘুম থেকে ওঠেনি। জোসেফ সেই ভোর পাঁচটায় উঠে বেরিয়ে পড়েছে মর্নিং ওয়ার্কে । তখন  চার পাশটা বেশ অন্ধকার। কুয়াাকাশা ঢাকা পথে আনমনে দ্রুত পায়ে  জোসেফ হেঁটে চলে। গত রাতে নাহিদের সঙ্গে সে প্রায় রাত তিনটা পর্যন্ত অবজারভেটরিতে ছিল। অদ্ভুত এক রেডিও  টেলিস্কোপিক বার্তা আসছে। এ বার্তার অর্থ উদ্ধার করা নাহিদের পক্ষে সম্ভবপর হয়নি। 

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সে যোগাযোগে করেছে। মহাজাগতিক বেতার তরঙ্গ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর রব্বানী আসছেন আজই দিনের কোনো এক সময়ে। বেচারা নাহিদের কথা ভেবে খারাপ লাগে  জোসেফের। সারা রাত্রি কম্পিউটারে নানান প্রোগ্রামের সাহায্যে বিশ্লেষণ করেও কোনো ব্যাখ্যা সে খুঁজে পায়নি। তবে অ্যাড্রোমিডা নক্ষত্রমন্ডলীর কোনো স্থান থেকে যে বার্তা আসছে তাতে সে নিশ্চিত।

এখন চার পাশটা বেশ ফর্সা হয়ে এসেছে। জোসেফের চারপাশে আরো অনেক মর্নিং ওয়ার্কের সাথী এসে জুটেছে। ঢাকার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যাংকের ম্যানেজার কাদের সালেকিন জোসেফের পূর্ব পরিচিত প্রথমদিন এসে আলাপ হয়েছিল। খুব গল্পী মানুষ। জোসেফকে দেথেই হইচই করে উঠে। আরে জোসেফ সাহেব কেমন আছেন? আপনার বন্ধু শুনলাম অবজারভেটরীতে কিসব সংকেত পাচ্ছেন। আমার মনে হচ্ছে আন্তঃমহাদেশীয় যুদ্ধ আবার লাগতে পারে। এসবই তার আলামত। যুক্তরাষ্ট্র এর কোন আল্ট্রা  টপ সিক্রেট স্পেস স্টেশন থেকে এসব বেতার বার্তা আসছে। জোসেফ বলে দেখুন আমি দুদিনের জন্য বেড়াতে এসেছি আপনাদের মতই। এতো সব স্পেস পলিটিকস আমার মাথায় আসছে না।  তবে প্রফেসর রব্বানী এখানে এসে পৌঁছালে বিষয়টি আরো স্বচ্ছ হয়ে উঠবে। জোসেফ বাংলোতে ফিরে আসে তখন সকালটা আরো বেশি স্পষ্ট আকৃতি পেয়েছে। 

নাহিদ দূরের জঙ্গলের দিকে চেয়ে, চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আনমনা ভাবছিলো। জোসেফের পায়ের শব্দে সে মুখ তুলে তাকায়। বন্ধুর চিন্তাক্লিষ্ট মুখের দিকে তাকিয়ে বড্ডো কষ্ট লাগে জোসেফের। হঠাৎ মনে হয় কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় লাইফেও নাহিদ এমনই ভাবুক ছিল। অল্পতেই খুব ভাবনায় পড়তো। তবে জোসেফের চেয়ে সে বেশি মেধাবী ছিল। পুরোপুরিভাবে কোনো সমস্যার সমাধান না করে নাহিদ কখনো শান্তি পেত না। আজও মহাকাশ থেকে আসা বেতার সংকেতের অদ্ভুত আচরণই যে নাহিদকে বিচলিত করছে তা বেশ বুঝতে পারে জোসেফ।

কি রে ব্রেক ফাস্ট করবি না?
জোসেফ চায় নাহিদের চিন্তা অন্যখাতে নিতে। নাহিদ কোনো উত্তর দেয় না।
বিড় বিড় করে বলে চলে- ‘এ ফর অ্যান্ড্রোমিডা, এম ফর মার্স’।
ধমক লাগায় এবার জোসেফ। কিসব আবোল তাবোল বকাবকি করছিস? ব্রেক ফাস্ট করবি না?

শেষ পর্যন্ত জোসেফের পীড়পিড়িতে নাহিদ ব্রেকফাস্ট করতে রাজি হয়। শুধু দু’খানা টোস্ট আর স্ক্র্যাম্বলড  এগ ও এক মগ ভর্তি ব্ল্যাক কফি খেয়েই নাহিদ এই সকাল বেলাতেই অবজারভেটরীতে চলে যায়। বন্ধুর এমন মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে জোসেফও তার সাথে যায়। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog