বাতওয়ালের ক্ষুধা (ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকসন বা বিজ্ঞান কল্প কাহিনী)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 47 জন পাঠক।
 ষষ্ট পরিচ্ছেদ

ওঝিমাণ্ডার আগমনের পরে বিড়িগড় পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে আবারো রাত নামে। সেলিম রান্নার যোগারযন্ত্রে ব্যস্ত হয়। আগুন থেকে একটু দূরে বসে শলাপরামর্শ করছেন মিনহাজ সাহেব ও ওঝিমাণ্ডা। সেলিম কফির জন্য কেটলিতে পানি গরম করছে। আপন মনে শিস দিতে দিতে কাজ করছে সে। আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে সে। বড় একটি পাথরের ওপর বসে আছে সেলিম। নাদুসনুদুস একটি হাঁস ঝলসাচ্ছে গনগনে আগুনে। আজই সকালে ওঝিমাণ্ডার সঙ্গে বিড়িগড় জঙ্গলে পরিদর্শনে গিয়ে হাঁস শিকার করেছে সে লেসার আল্ট্রসনিক গান দিয়ে। লম্বা একটি কাঠি দিয়ে আগুনটি মাঝে মাঝে উসকে দিচ্ছে সেলিম।

-	প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে বাবা সেলিম আর ততক্ষণ লাগবে তোমার? ওঝিমাণ্ডা তাড়া দেন।
-	এইতো রান্না প্রায় শেষ। আপনারা দুজনে একটু এগিয়ে আসুন। গরম গরম খেয়ে নিন।

হাঁসের রোস্ট, গরম রুটি, জলপাইয়ের চাটনি আর প্রচুর কফি পান করে রাতের খাওয়াটা শেষ করলেন মিনহাজ সাহেব। তারপর একটি হাই তুলে বলে উঠলেন, বুঝলেন ওঝিমাণ্ডা, আজ রাতটা বড়ো ভয়ানক রাত। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আজ কিছু একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটবেই।
ওঝিমাণ্ডা খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে এসে আগুনের সামনে বসলেন। তারপর তার বিশেষ পাইপে অগ্নি সংযোগ করলেন। একরাশ ধোঁয়া তার নাক মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসলো। তিনি বললেন মিনহাজ সাহেব আমার মনে হচ্ছে বাতওয়ালের এই অদৃশ্য শত্তি আঘাত হানবে রাত দু’টোর দিকে। তার আগেই আমরা আমাদের লেজার ব্যারিয়ার ও প্রটেকটিভ শিল্ড আ্যাক্টিভেট করবো। 

-	সেলিম বলে ওঠে, কিন্তু ওঝিমাণ্ডা এতটা ঝুঁকি নেওয়া কি ঠিক হবে আমাদের?
-	ওঝিমাণ্ডা উত্তর দেন ভয় নেই, আমি তো তোমাদের সঙ্গেই থাকবো। তাছাড়া আমাদের সঙ্গে ভালকানের সাইকিক সুপ্রাসনিক বিমগান আছে। যেকোনো অদৃশ্য মহাজাগতিক শক্তিকে এটি নিউট্রালাইজ করতে পারে। সুপারসনিক বিমগানই আমাদের রক্ষা করবে।
নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মিনহাজ সাহেব, সেলিম ও ওঝিমাণ্ডা চালু করে দিলেন তাদের লেসার ব্যারিয়ার ও প্রটেকটিভ শিল্ড।. শিল্ডের বাইরে জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধ আলোয় চারপাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ঝিরঝিরে বাতাস বইছিলো এতক্ষণ, সেটাও যেন আস্তে আস্তে  বন্ধ হয়ে গেল। রাত আরো বাড়তেই অল্প অল্প আঁধার মেশানো জ্যোস্নার যে আলো ছিল, সেটার অপরও কে যেন কালি ঢেলে দিল। প্রকৃতি এক অদ্ভুত গম্ভীর রূপ নিল।

হঠাৎ সেলিমের মনে হলো প্রটেকটিভ শিল্ড ভেদ করে তার গায়ে আশ্চর্য ঠাণ্ডা বাতাস এসে লাগছে। কী শীতল! মনে হল যেন কোনো স্বপ্নপুরী থেকে ভেসে আসছে! বাতাসের বেগ আস্তে আস্তে যেন বাড়ছে, গুরুগম্ভীর মেঘ গর্জন ও আকাশের বুক খান খান করে চিরে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করলো। পর মুহূর্তেই শিল্ড ছিন্নভিন্ন করে সেলিমকে যেন কোন অজানা শত্তি উঠিয়ে নিয়ে গেলো। মিনহাজ সাহেব আর ওঝিমাণ্ডা তাদের নিজ নিজ প্রটেকটিভ শিল্ডের ভেতর বসে সেলিমের হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়াটাই শুধু দেখতে পেলেন। মিনহাজ সাহেব চিৎকার করে উঠলেন ‘সেলিম’ বলে। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog