গ্রেট এক্সপেক্টেশন (মূল উপন্যাস: চার্লস ডিকেন্স) ধারাবাহিক উপন্যাস (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 148 জন পাঠক।
 দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

রহস্য ঘনিয়ে এলো
 
ছোট্ট ছেলে পিপের কাঁপুনির দিকে লোকটার এতোটুকু নজর নেই। তার বীভৎস কদাকার মুখটা তখন পিপের চোখের সামনে।
কী বিশাল তার  চোখ দুটি। পিপ চেয়ে নিশ্চল হয়ে পড়লো। ভয়ে তার বুকের ভিতরটা ঢিপঢিপ করতে লাগলো।

লোকটা গম্ভীর গলা বললো,
‘তুই এখুনি ছুটে পালা। কিন্তু ভোর না হতেই নিয়ে আসবি করাত আর হাতুড়ি। দুটোই আমার চাই। নইলে তোর কলজে খাবো। তোর রক্ত খাবো-’

 পিপের প্রাণ তখন প্রায়  কণ্ঠাগত।
এতো শীতের মধ্যেও তার শরীর ভওে দরদও করে ছড়িয়ে পড়ছে ঘাম। এক গা ঘেমে উঠেছে সে!

দানবটার মনে নেই এতোটুকু করুণা।
কী ভয়ংকর তার  চাউনি।

তার কঠিন কণ্ঠস্বও ডুকরে উঠলো আবার,
 বিপদে পড়েছিস বলে কাউকে ডাকতে পারবি নে তুই। মনে রাখিস, কাউকে কইতে পারবি না আমার কথা। কিছু না- এতোটুকুও না। যদি জানতে পারি বলেছিস, তা’হলে এক লহমায় মেরে ফেলবো তোকে।

সে আরও বলে চলে-
‘আমি একলা নেই এখানে! দেখছিস বটে একলা। কিন্তু আমার সঙ্গে একটা জোয়ান রাক্ষস আছে। বড়ো শখ তার বাচ্চা রক্তের! সেই তখন থেকে তাকে আসি ঠেকিয়ে রাখছি। ঠিকঠাক কথা রাখলে বেঁচে যাবি তুই, নইলে মরণ-মরণ- মরণ হবে তোর।’
রা রা শব্দে চেঁচিয়ে উঠলো লোকটা,
‘বল, বলে যা কি আনতে যাচ্ছিস তুই! 
প্রায় মৃতপ্রায় পিপ বললো.
করাত, হাতুড়ি আর –আর খা- খাবার আনবো-
দৌঁড়ে যা, দৌঁড়ে যা, শীগগির!

পিপ ছুটে চললো।
পিছু ফিরে তাকাবে একবারও - সে সাধ্য হলো না তার।

রাত তখনো রয়েছে মেলাই। খাবার ঘরের দিকে ভোর রাতে কেউ নেই। পিপ ছুট গিয়ে ঢুকলো সেই ঘরের মধ্যে। একটা আস্ত রুটি তুলে নিল সে। একটা বাটি থেকে বেশ খানিকটা চিজ, এক বোতল ব্র্যান্ডিও সঙ্গে নিল।

সামনের ঘরে কামারশালা। খুঁজেপেতে মিথ্যেই অস্থির হলো সে।
    নেই! হাতুড়িটা কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কপালটা তা ভালো করাতটা মিলে গেলো। আর সেই সঙ্গে ছোটমত হাতুড়িও মিললো    একটা। কোনদিকে ভ্রƒক্ষেপমাত্র না করে সে দুটো জিনিষ নিয়ে একরকম ছুটেই চললো আবার গোরস্তানের দিকে।

এবার তার ভয় বোনকে। দানবটা যা যা চেয়েছে তা সে এখুনি পেয়ে যাবে।
জিনিসগুলো পেয়ে গেলে  সেও আর তাকে মারবে না। তাই সেদিক থেকে নিশ্চিত হতে পারলেও বোনের ভয়ে পিপ নতুন করে আবার শংকিত হয়ে উঠলো।

ছুটতে ছুটতে এতো সব ভেবে নিলো সে। বাইওে তখন যতোটা আঁধার, তার চেয়েও ঘন ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ছে কুয়াশা। ধোঁয়ার  মতো সব, উড়ন্ত ধুলোর মতো সব সুমুখের পথ ঘাট আচ্ছন্ন করে ছড়িয়ে-গড়িয়ে লুটিয়ে আছে। তার মধ্যে দিয়ে দৌড়ে চললো পিপ! (চলবে)।

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog