বাতওয়ালের ক্ষুধা (ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকসন বা বিজ্ঞান কল্প কাহিনী) দশম পরিচ্ছেদ

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 92 জন পাঠক।
 দশম পরিচ্ছেদ
শরণখোলা থেকে কটকার দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। বন বিভাগের রেস্ট হাউস আছে এখানেও। রেস্ট হাউজের মাইল দুয়েক সামনেই ঘন অরণ্য। রাতে এখানে বাঘের ডাকও শোনা যায়। সকাল থেকেই সেদিন ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি। এক আকাশ মেঘ থেকে ঝরেই চলেছে। এরকম বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বেরোতে মোটেই ইচ্ছা হচ্ছিল না প্রফেসর রব্বানীর। বিছানায় শুয়ে কাটালেন সারাটা দিন। এখন বিকেল হয়ে গেছে। জানালার বাইরে মরা আলো। বাঘটার কথা ভাবছিলেন প্রফেসর রব্বানী। বাঘ সাধারণত লোকালয়ে এসে মানুষ আক্রমণ করে আহত বা বৃদ্ধ হয়ে পড়লে। এ বাঘটির মানুষ খেকো হবার কারণ কী তা জানা দরকার। আর সংরক্ষিত বনের বাঘের মানুষখেকো হবার কারণই বা কি হতে পারে? রশিদ গাইন ও প্রফেসর রব্বানী ঠিক করলেন পরদিন বৃষ্টি না হলে তারা টাইগার পয়েন্টের জঙ্গলে প্রবেশ করবেন। 

টাইগার পয়েন্ট হচ্ছে সুন্দর বনের সর্বাধিক বাঘ বিচরণক্ষেত্র। রশিদ গাইন এই এলাকার পুরানো লোক। তার কাছে বাঘের বিচিত্র সব কাহিনী শুনতে শুনতে পরদিন সকালে প্রফেসর রব্বানী টাইগার পয়েন্টের জঙ্গলে প্রবেশ করলেন। জানা গেল দিনের আলোতেও কাজ করতে যেতে ভয় পাচ্ছে বাওয়ালীরা। সাবধানে এগিয়ে চলেছেন প্রফেসর রব্বানী। ক্রমেই বন ঘন হয়ে আসছে। সূর্যেও আলোও ¤øান হয়ে এসেছে। হঠাৎ কেমন যেন শীত শীত একটি ভাব নেমে এসেছে সারা বন জুড়ে। ক্যাম্প ফেলবার যুৎসই জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কাছেই জলাশয় আছে এমন একটি জায়গা বের করতে বললেন প্রফেসর রব্বানী। তাছাড়া প্রচÐ ক্ষিধে পেয়েছে সবারই। সুতরাং যত শীঘ্র তাঁবু ফেলা যায় ততই মঙ্গল।

তাঁবু ফেলার  জায়গা পেয়ে গেল রশিদ মিয়া। তিনধারে গভীর জঙ্গল। সামনেই একটি নদীর বাঁকের মতো জলাশয়। জলাশয় থেকে প্রায়  ৩০০ গজ দূরে একটু খোলা জায়গা পাওয়া গেল।  এ জায়গাটির অবস্থান সত্যিই আশ্চর্যজনক। সাধারণত এধরনের গভীর অরণ্যে খোলা জায়গা পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। জলাশয়ের ভেজা মাটি জন্তু-জানোয়ারের নিয়মিত আসার পদচিহ্ন ধরে রেখেছে পরম যতেœ। রশিদ গাইন এরই মধ্যে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা শুরু করে দিয়েছে। গরম গরম কফি আর টিনের মটরশুঁটি প্রফেসর রব্বানীর হাতে ধরিয়ে দিল সে আধা ঘন্টার মধ্যেই।
রাতের জন্য হাইব্রিড আলুর দম, তদ্দুর রুটি আর মুরগির ভুনা মাংস করতে বলে প্রফেসর রব্বানী তাঁবুর বাইরে এসে দাঁড়ালেন। এবার সত্যি সত্যিই রব্বানী সাহেবেরও কেমন যেন গা ছমছম করতে লাগলো। ছোটবেলা থেকেই অতিপ্রাকৃত ঘটনাগুলো তার জীবনে বেশি বেশি করে ঘটে যেতে দেখেছেন তিনি।

সুন্দরবনের এই এলাকায় গভীর জঙ্গলে উন্মুক্ত আকাশের নিচে এ রকম খোলা জায়গা কখনও আর দেখা গিয়েছে কিনা তা প্রফেসর রব্বানী জানেন না। তাই তিনি বিষয়টি নিয়ে রশিদ গাইনের সঙ্গে কথা বললেন। সে বেশ কিছুক্ষণ মৌনতা পালন করে অবশেষে যা বললো তার মর্ম কথা হচ্ছে,‘সবই আমাদের ভাগ্য স্যার। সে বহু বছর আগের কথা। এ হল গিয়ে ওই ব্যাটা বাওয়ালীদের পাপের শাস্তি। মৌমাছিরা কষ্ট করে মধু সংগ্রহ করে আর ওই ব্যাটারা তা চুরি করে নিয়ে যায়। একবার রাত বেশি হয়ে যাওয়াতে বাওয়ালীরা পথ হারিয়ে এখানে এসে পড়ে। বাঘের ভয়ে রাতে শুকনো ডালপালা একত্র করে আগুন জ্বালায়। অসাবধানতার কারণে বনের এ অংশে আগুন লাগলে যখন সব পুড়ে ছাই হতে থাকে তখন আকাশ থেকে নেমে আসেন বন দেবতারা। বন দেবতারা তাদের অদ্ভূত যন্ত্র দিয়ে মুহুর্তে শুধু আগুনই নেভাননি, বাওয়ালীদেরও নিমেষের মধ্যে উধাও করে দেন। সেই থেকেই স্যার এই এলাকাটি এমন হয়ে আছে।
রশিদ মিয়ার কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে তাদের কপালেও যে

 আজ রাতে বেশ দুঃখ আছে তা প্রফেসর রব্বানী বুঝতে পারলেন। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog