কাক কাহিনী (ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকসন) (তৃতীয় পর্ব)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 99 জন পাঠক।
 তৃতীয় পর্ব

আসলেই কি নিলয়ের ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ হচ্ছে? এমনটি তো হবার কথা নয়। ল্যাপটপে সে স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। কোথাও কোনো গন্ডগোল নেই। কেবল এই কাকটি- আচ্ছা, পৃথিবীর সব দেশেই তো কাক আছে। নিলয়ের বাসার বারান্দার গ্রিলে বসে সেন্ডুইচ খাচ্ছে যে কাকটি তার শরীরের কোথঠর কোনো ডিভাইস লাগানো নেই তো? এমন কি হতে পাওে যে, কাকটিকে কেউ আড়াল থেকে নির্দেশনা দিচ্ছে? কাক নিয়ে কোন পরীক্ষা বা গবেষণা চালাচ্ছে? এমনটি তো মাথায় আসেনি নিলয়ের।

এভাবেই দিন সাতেক চলে যায়। কাক প্রতিদিন নিলয়ের বারান্দায় এসে খাবার খেতে চায়। ভালো মন্দ নিয়ে কথা বার্তাও বলে। এই তো সেদিন বললো, ‘শোনো নিলয়, তোমাদের পৃথিবীর অবস্থা কিন্তু মোটেই ভালো নয়। নানা জায়গায় আমি উড়ে বেড়াই, আমার আতœীয়রাও বেড়াতে আসে অন্য দেশ থেকে। তবে কোথাও অবস্থা তেমন ভালো নয়। কি লেখ সারাদিন এতো ল্যাপটপে। তোমার অফিসে যেসব গবেষণা হয়, তার আসলে কোন মানেই হয় না। আমাদের... হঠাৎ চুপ করে যায় কাকটি। নিলয় তাকে জিজ্ঞেস করে ‘তোমাদের কি?’ কাকদের কি আলাদা একটা জগত আছে? কাকটি চুপ করে থাকে। তারপর একটু পরে উড়ে কোথায় যেনো চলে যায়। দুদিন তার দেখা মেলে না। 

পাখি বিষয়ক প-িত পক্ষীবিদ ড. সোবহানের কাছে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে নিলয়কে পরামর্শ দেয় তার ঘনিষ্ট বন্ধু এমদাদুর। ড. সোবহান খুব ব্যস্ত মানুষ। একে তো করোনার সময়, তায় ব্যস্তটা, তাই ঠিক হয় জুম মিটিং হবে ড. সোবহানের সাথে। ড. সোবহান বাংলাদেশের প্রখ্যাত একজন পক্ষীবিদ। দুর্লভ প্রজাতির বেশ কিছু পাখি এখনও বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জীবিত আছে তা তিনি অনুসন্ধান করে প্রমাণ করেছেন। আর তাই আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি খ্যাতি পেয়েছেন। বিভিন্ন নাম করা জার্নালে তার গবেষণা নিবন্ধও প্রকাশ পেয়েছে। 

নিলয় ভাবে  এধরনের পক্ষীবিদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কাক বা পাখিদেও সম্পর্কে তাকেও কিছুটা পড়ালেখা করে নিতে হবে। তাই পাখিদের উপর বেশ কিছু বই সে সংগ্রহ করেছে। আজ রাত থেকেই পড়া শুরু করবে ঠিক করে নিলয়। কত রকম পাখি আছে পৃথিবীতে ভাবতে অবাক লাগে নিলয়ের। এদের মধ্যে কিছু পাখি রয়েছে যারা মানুষের ভাষা অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ নকলনবীশ এসব পাখি। সেদিক থেকে বললে তোতাপাখি বা টিয়া পাখি সবচেয়ে অগ্রগামি কথক পাখি। উল্লেখ্য টিয়া পাখি হচ্ছে আফ্রিকান গ্রে, অ্যাকলিটাস টিয়া আর আমাজন টিয়া। 

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে পাখিদেও মস্তিষ্কের কাঠামো মানুষের মস্তিষ্কেও সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মানুষের মস্তিষ্কেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান  এসব পাখিদেরও রয়েছে। যেমন, সেরিব্রিলাম এবং করটেক্স। করটেক্স নিয়ন্ত্রণ করে প্রত্যক্ষণ, সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান, স্মৃতি এবং ভাষাগত বিষয়। অন্যদিকে সেরিব্রিলাম নিয়ন্ত্রণ করে ঐচ্ছিক পেশি সঞ্চালনের কাজ। পাখিদেও মস্তিষ্কের এই দুটি অংশ একটির পর অন্যটির কাজ করে মানুষের কণ্ঠস্বর অনুসরণে সহায়তা করে। পাখিদের দাঁত নেই, ভোক্যাল কর্ড নেই। তারা শুধুমাত্র শোনা শব্দের অনুসরণ করে। অবশ্য ভোক্যাল কর্ডেও পরিবর্তে তাদেও রয়েছে সিনরিক্্র নামক পেশী ফোলানোর ক্ষমতা যা তাদের বুকের কাছাকাছি থাকে। এর মাঝে বিশেষ রস থাকে। এই পেশী স্ঞ্চালনে পাখিরা গান গায়। শব্দ উচ্চারণ করে। 

মানুষের কথা পাখিদেরও বোঝার কথা নয়। তবে তারাই একমাত্র প্রাণী যারা মানুষদেও কথা অনেকটা হুবহু অনুকরণ করতে সক্ষম।  নিলয় ভাবে কিন্তু এই কাকটি তো অনুকরণ করছে না। নিজের চিন্তপ্রসূত কথা বলছে! খাওয়ার শখের কথা জানাচ্ছে। নাহ্ আর পারছে না নিলয়। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog