কাক কাহিনী (ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকশন কল্পকাহিনী) পঞ্চম পর্ব

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 99 জন পাঠক।
 পঞ্চম পর্ব

সব কিছু এভাবেই চলছিল । কাকটি প্রায় প্রতিদিনই আসে। নিলয়কে বিভিন্ন বিষয়ে তার জ্ঞান দেয়। মানুষ কেন অমানুষে পরিণত হতে চলেছে সে বিষয়ে তার দুঃখের কোন শেষ নেই। অনেক বিষয়ে কাকটি তার সুচিন্তিত পরিকল্পনাও প্রকাশ করে। নিলয় হঠাৎ কাকটির কাছে তার নাম জানতে চায়। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে কাকা উত্তর দেয়, আমার নাম, তুলতুল। কাকের নাম আবার তুলতুল হয় কীভাবে ভাবনায় পড়ে নিলয়।

পক্ষীবিদ ড. সোবহান সব কিছু শুনে পরামর্শ দিয়েছেন গোপন একটি মিনিয়েচার ক্যামেরা দিয়ে কাকের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের। তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা না লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ কাকটি যদি আগে থেকেই সিসিটিভি চিনে রেখে থাকে, তা’হলে বুঝতে পারবে যে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ছোট একটি মাইক্রোফোন নিলয়ের সার্টের পকেটে লুকানো যা একটি রেকর্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা। কাকের সব কথা সে বলা মাত্রই রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।

কাকটি মানে তুলতুল হঠাৎ বলে, এই যে, রাশিয়ার মানুষ হঠাৎ ইউক্রেন আক্রমণ করলো এটা কি ঠিক হল? মানুষ তো কতই মারা গেলই। কত পশুপাখি মারা গেল  তার হিসেব কে রাখে বল? ইউক্রেনে আমাদের প্রজাতির কাকও মারা গেছে কয়েক ’শ। কে কার খবর রাখে বল তো! কাক বলে কি সে প্রাণী না? তোমরা মানুষরা বিভিন্ন সভায়, মিটিং-এ মানবাধিকারের কথা বল বারবার। প্রাণীদের অধিকারের কথা কেউ বল না। তাদের কি বাঁচার অধিকার থাকতে নেই? প্রতিদিন হাজার হাজার কাক পৃথিবীতে মারা যায় অকালে। তাদেও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কে দেবে বল? মানুষ তো মানুষেরই খবর রাখে না। এ পৃথিবীতে কে কার খবর রাখে বল! ( চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog