কোমল পানীয় পান না, বিষ পান: সিদ্ধান্ত আপনার

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 97 জন পাঠক।
 বাজার ভরা এখন নানান ধরনের রঙবেরঙের কোমল পানীয়। মানুষ কোনটা পান করবে, কেন পান করবে তা ভাবারও সময় নেই। কোমল পানীয়ের পাশাপাশি দিনে দিনে বাড়ছে বিভিন্ন ফলের নির্যাসের নামধারী বাহারী জুসের/সফট ডিংকসের  সংখ্যাও।

বাজারে বিদ্যমান কোমল পানীয় বা সফট ডিংকসের মধ্যে মূলত ৯০ শতাংশই কার্বোনেটেড ওয়াটার মিশ্রিত। এতে আবশ্যিকভাবে কোনো পুষ্টিগুণ থাকে না। বরং এগুলোর মিষ্টি স্বাদ বানানো হয় চিনি মিশ্রিত করে বা উচ্চমাত্রার ফ্যাকটোজ কর্ণ সিরাপ মিশিয়ে যা ফ্যাকটোজ ও ডেক্ট্রোজের সম্মিলন বলা চলে।

বিভিন্ন ফলের রস- যেমন কমলা আপেলের রস হচ্ছে এসব গাছের ফল থেকে চাপ দিয়ে বের করা নেয়া তরল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব ফলের রসের সাথে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম স্বাদ ও গন্ধ যুক্ত করা হয়। রস সংরক্ষণে যেসব পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বোতলজাতকরণ, (বোতলের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে) পাস্তুরায়ন, ঘণীভূতকরণ, ফ্রিজিং ইত্যাদি। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আসল ফলের বদলে ভিন্ন জিনিস ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম রং, স্বাদ ইত্যাদির মাত্রা মানবদেহের বিবেচনায় ক্ষতিকর মাত্রায় মেশানোর প্রবণতা থাকে। এক্ষেত্রে আপনি যতই মনিটরিং এর কথা বলেন না কেনো তা কখনই সম্ভবপর নয়। 

তাহলে উপায় কি? উপায় আছে। বাসায় নিজ হাতে জুস বানিয়ে নিন ব্লেন্ডারে। বিভিন্ন ফলের জুস বাসায় তৈরি করে খেতে পারেন ঋতু ভেদে। এখন গরমের সময়। লেবুর সরবত বা মোচাম্বির সরবত বানিয়ে খান অনেক সুস্থ থাকতে পারবেন।

কোক, সেভেন আপ, ফানটা পেপসির চটকদার বিজ্ঞাপন প্রতিদিনই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রদর্শিত হচ্ছে। মানুষ আর কিবা করবে! এসব চটকদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পরে মানুষ নিজ সন্তানদের কষ্টের পয়সায় এসব পানীয় কিনে দিচ্ছে। দেখভাল করার  কেউ নেই। 

শুধু কি তাই! আজকালতো এসব সফট ডিংকস ছাড়া পার্টি, জন্মদিন, গায়ে হলুদ জমেই না। অর্থাৎ পরিবার নিয়ে নিজের টাকায় আমরা বিষ পান করছি। এসব পানীয়ের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জেনেও আমরা কিনছি, পান করছি সামাজিক স্ট্যাটাস বজায় রাখতে। ফলাফলে বাড়ছে ডায়াবেটিকস এবং  কোলেসট্ররেল উচ্চ মাত্রায়। নতুন প্রজন্মও এর থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

কোমল পানীয়ের এই কর্পোরেট ব্যবসার বিস্তার নিয়ে আমাদের জনস্বাস্থ্যবিদরা কতখানি সচেতন তা চিন্তার বিষয়। এ সম্পর্কে আমজনতাকে সচেতন করা তাদের নৈতিক ও মৌলিক দায়িত্ব হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে তার উদাহরণ খুব একটি দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে।

কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনের প্রসারে কর্পোরেট কালচার একদিকে আমাদের সংগীত জগতকে কলূষিত করছে বিকৃত সুরের মুর্চ্ছনার মাধ্যমে, অন্যদিকে তরুণসমাজকে উৎসাহিত করছে কোমল পানীয় পান করতে। বহুজাতিক কোম্পানী কোকাকোলা, সেভেন আপ, ফ্যানটা আমাদের শহুরে ও গ্রামীণ জীবনকে গ্রাস করছে ক্রমশ। বাড়ছে শিশুদের মধ্যে অস্বাভাবিক স্থুলতা, তরুনদের মধ্যে ডায়াবেটিক-২। প্রতিদিনই টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে নামীদামী সেলিব্রেটিদের অংশগ্রহণও দেখবার মতো। পুরো একটা জেনারেশনকে ভুল প্রচারণা দিয়ে প্রতিদিন তাদের স্বাস্থ্য ও জীবনের পরিকল্পনা এবং স্বপ্নকে আমরা ঝুঁকি এবং হুমকির মুখে ফেলছি। আমাদের সেলিব্রেটিরাও কাঁচা টাকার লোভে নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

এক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাষ্ট্র নয়, সুশীলসমাজ, শিক্ষিত জ্ঞানতাপসদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ ভূমিকা  পালন করতে হবে, নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। আমাদের হাতে কিন্তু সময় খুব কম। প্রকৃতি কীভাবে প্রকৃতি বিরুদ্ধ স্বেচ্ছাচারিতার শাস্তি দেয় সাম্প্রতিকতম সময়ে করোনা অতিমারিই তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তারপরও কি আমরা সচেতন হবো না? শিক্ষা নেবো না প্রকৃতির কাছ থেকে? 

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog