বাতওয়ালের ক্ষুধা (ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকসন বা বিজ্ঞান কল্প কাহিনী)

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 23 জন পাঠক।
 একাদশ পরিচ্ছেদ

প্রফেসর রব্বানী ভাবলেন এই ২০৪০ সালে ”বনদেবতা” নামবেন আকাশ থেকে  এটি তিনি কীভাবে ভাবছেন?  এটি কি রূপকথার আমল নাকি! এতসব ভাবতে গিয়েই পুরো ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে রব্বানী সাহেবের কাছে। আরে  বিষয়টি কেন তিনি আরো আগে ভাবেন নি? ‘বনদেবতা’ ‘আকাশ থেকে নেমে আসা’, হাতে বিশেষ যন্ত্র’ ইত্যাদি সবকিছুই তো ইউএফও এর আর্বিভাব নির্দেশ করছে। এই ২০৪০ সালে ইউএফও সম্পর্কে চিন্তিত হবার যথেষ্ট ব্যাপার রয়েছে। কারণ কখনই তারা সরাসরি যোগাযোগ করেনি। করতেও চায় না বলেই মনে হয়। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ভিনগ্রহের প্রাণীরা যখন-তখন তাদের ক্রিয়াকলাপ চালাচ্ছে অথচ তা শনাক্ত করা বা ইউএফও এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা এখন পর্যন্ত সম্ভবপর হয়নি।

রাতের খাবার তৈরি হয়ে গিয়েছিল, তাই আর দেরি না করে খেয়ে নিলেন প্রফেসর রব্বানী। এখন বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। তাঁবুর সামনে ডালপালা দিয়ে আগুন জ্বালাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবেশটা বেশ সুনসান। বনদেবতা বা ইউএফও এর আগমনের কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যের ক্ল্যান্তিতে প্রফেসরের দুচোখে ঘুম জড়িয়ে আসছে। রশিদ গাইনকে তিনি বললেন, আমি ঘুমাতে চললাম তেমন কিছু হলে ডাক দিও, আর একটু সাবধানে থেকো। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই দুচোখ ঘুমে বুজে এল।

ঘুমটা কি কারণে ভাঙলো তা বুঝতে কয়েক সেকেÐ সময় লাগলো প্রফেসর রব্বানীর। সমস্ত তাঁবু দুলছে। ভূমিকম্প? দ্রæত বাইরে বেরোতে গেলেন তিনি আর তক্ষুণি গগণ কাঁপানো গর্জন শুনলেন বাঘের। সেই সঙ্গে লেসার গানের ট্রেসারে একটানা সাঁ সাঁ শব্দ। নিঃশব্দে শরীরটাকে উল্টে দিয়ে নিজের লেসার গানটি হাতে নিয়ে বাইরে আসলেন রব্বানী সাহেব। তাঁবুর বাইরে তখন হুলুস্থুল কাÐ। রশিদ গাইনের স্থানীয় ভাষায় আহাযারী তীব্র হয়ে ওঠার আগেই বাইরে বেড়িয়ে এলেন তিনি। রব্বানী সাহেবের কাছ থেকে হাত দুয়েক দূরে বনরক্ষী আজমল শেখ মাটিতে পড়ে আছে রক্তাক্ত অবস্থায়। তার বুকের ভিতর থেকে ছোট একটি নিখুঁত ফুটো দিয়ে তীরবেগে রক্ত বের হয়ে আসছে। এধরনের চিত্র কেবলমাত্র লেসার ট্রেসার গানের গুলিতেই সম্ভব। 

বনরক্ষীকে বাঘ না মেরে লেসার গানের গুলিতে কে মারলো সে কথা রশিদ গাইনকে জিজ্ঞাসা করতে সে যা জানালো তা হচ্ছে, মৃদু আর্ত চিৎকার আর ক্রুদ্ধ গর্জনে তার ঘুম ভেঙে যায়। রাতের আধাঁর তখন বেশ গাঢ় হয়েছে। আগুন নিভে এসেছে। চাঁদ মেঘের আড়ালে ঢাকা দিয়েছে। অন্ধকারে বাঘের সেই চির পরিচিত চোখদুটি রমিদ গাইনের চিনতে  এতটুকু ভুল হয়নি। লেসার গান হাতে রেখেই সে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলো। ঠিক তখনই লেসার ট্রেসার গানের সাঁ সাঁ শব্দ শুনতে পেয়ে সেভাবে প্রফেসর সাহেবই বাঘটিকে গুলি করেছেন, তারপর তাঁবুর বাইরে এসে দেখতে পায় বাঘ নয়, একজন বনরক্ষী গুলি খেয়ে পড়ে আছে। ভোর না হওয়া পর্যন্ত রহস্যের বা মৃত বনরক্ষীর কোনো কিনারা হবে না তাই রব্বানী সাহেব রশিদ গাইনকে মৃত বনরক্ষীর দেহের হেফাজত করতে বললেন।  ভোর হলে খুলনা থেকে লোক এসে মৃত দেহটি নিয়ে যাবে।

সকাল হতেই রশিদ গাইন তার অভ্যাসমতো ধুমায়িত চায়ের কাপ হাতে তাঁবুতে ঢুকলো। চায়ের পেয়ালা প্রফেসর  রব্বানীকে ধরিয়ে দিয়ে বেশ চিন্তিভাবে বললো, এখন আমরা মাত্র দু’জন থাকলাম। রব্বানী সাহেব তাকে ধমক দিয়ে বললেন, তাতে কি? আজ রাতটা এখানে থেকে আগামীকাল ফিরে যাবো। আর বাঘ না মেরে মানুষ মারলো কে তা জানতে হবে না?

সারাদিন গভীর জঙ্গলে অনেক অনুসন্ধান করেও বাঘের কোরো চিহ্নই পাওয়া গেল না।  সেই সঙ্গে বনরক্ষীকে লেসার গান দিয়ে কে বা কারা মারলো তাও জানা গেল না। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে সারাটা বন জুড়ে অন্য কোনো পশুপাখির সন্ধানও পাওয়া গেল না। রশিদ গাইন এই বিষয়টা নিয়ে কিযেনো বলতে চাচ্ছিল কিন্তু প্রফেসর রব্বানীর ধমক খেয়ে শেষ পর্যন্ত চুপ করে গেল।

ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে সন্ধ্যার একটু আগে রব্বানী সাহেবরা তাঁবুতে ফিরে এলেন। রশিদ গাইন রান্নার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লো। হঠাৎ সন্ধ্যার আবছায়ার মধ্যে কতগুলো মানুষ তাদের তাঁবুর সামনে যেন আকাশ থেকে নেমে আসলো। রশিদ গাইন চমকে উঠলো।  সেই সাথে প্রফেসর রব্বানীও। পোশাক পরিচ্ছেদ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে এরা বাওয়ালী। কিন্তু এখানে হঠাৎ আসলো কি করে? আর এদের উদ্দেশ্যই বা কি?

বাওয়ালীদের মধ্যে থেকে একজন হঠাৎ বলে ওঠে রাতটা এখানেই থাকবো। প্রচুর মধু সংগ্রহ হয়েছে আজ। আপনাদের কোনো অসুবিধা হবে না স্যার। আমরা ওপাশে নিজেদের ব্যবস্থা করে নিতে পারবো। 

রাতের খাবার বাওয়ালীরা নিজেরাই রান্না করে নিয়েছে। প্রফেসর রব্বানী কফি পান করতে করতে রশিদ গাইনকে প্রশ্ন করলেন, হালচাল কেমন বুঝছে সে? রশিদ ভয়ে ফিস ফিস করে জানালো, বাওয়ালীদের ব্যাপার স্যাপার ভালো লাগছে না। কি যে রান্না করছে বোঝা মুশকিল; উৎকট গন্ধ বেরুচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বাওয়ালীদের হাঁকডাকে তারা দু’জনেই তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে এলেন। তাঁবুর বাইরে ডালপালা দিয়ে রশিদ গাইন যে আগুন জ্বালিয়েছে তারা তা নিভিয়ে ফেলতে বলছে। কারণ জিজ্ঞাসা করতে জবাব এলো রাত বারোটার পরে এভাবে আগুন জ্বালিয়ে রাখলে না’কি বনদেবতা রুষ্ট হন। অতত্রব আগুন নিভিয়ে ফেলতে হবে। রশিদ গাইন কিন্তু এবারে প্রফেসর রব্বানীর নির্দেশের অপেক্ষা না করেই আগুন নিভিয়ে দিল।  (চলবে)

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog