ডলফিনের জন্য ভালোবাসা

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 85 জন পাঠক।
 আমি সোহেল আদনান। পেশায় বিজ্ঞান সাংবাদিক। সম্প্রতি সুন্দরবন এলাকায় তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর ঐ এলাকায় যেতে আগ্রহী হয়ে উঠি। জাতিসংঘের একটি বিশেষ দলের সঙ্গে গতকাল সুন্দরবনে এসে পৌঁছেছি। বিশেষজ্ঞ দলটির কার্যকলাম দেখা ছাড়াও আমি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সুন্দরবনের পরিবেশ দুষণের ব্যাপারটি চাক্ষুষভাবে বোঝার চেষ্টা করবো। 


শীতের সময় এখন। আমরা রয়েছি  নদীর উপর পর্যবেক্ষণ নৌযানে। খুব সকালে আমার ঘুম ভেঙ্গেছে। এখনও কুয়াশার পর্দা সরিয়ে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। আমি ভাবছিলাম সুন্দরবনের কথা। প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি এই সুন্দরবন। এই বনের যে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং  জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির ক্ষমতা, তা অনেকের মতো আমার কাছেও বিষ্ময়কর। বিশ্বসেরা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আট প্রজাতির ডলফিন, নয় প্রজাতির মাছরাঙা এক লাখের মতো হরিণ এই বনে বাস করে। কী অসম্ভব জীবনী শক্তি থাকলে একটি বনে ৩৩৪ প্রজাতির গাছ জন্মাতে পারে! আমাজনের গভীর অরণ্যের পরেই বিশ্বে প্রতি বর্গমিটারে সবচেয়ে বেশি বায়োবাস (জীব সমষ্টি) রয়েছে এই সুন্দর বনেই। এই বনে আরো রয়েছে কত নাম না জানা প্রাণী। এর প্রাণসম্পদের অনেক কিছুই এখনো অজানাই রয়ে গেছে। সম্পূর্ণ নদী পরিবেষ্টিত এ বনটি নদী ও খাল দিয়ে জনবসতি থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই সারা বাংলাদেশে যখন বন ধ্বংস করা আর বন নিধন করা চলছে, তখন একমাত্র সুন্দরবনই এসব প্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে রয়েছে। এই আশ্রয়স্থল আজ বিপণ্ন তা ভাবতেই মনটা কেমন যেন করে উঠলো।


লিন্ডা গ্রেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী। ধূমায়িত কফির কাপ হাতে অবজারভেশন বোটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তার পাশে এসে দাঁড়ালাম। লিন্ডা বলে, ‘হাই সোহেল। হাউ ডু ইউ ফিল এবাউট সুন্দরবান?  


আমি যেন কেমন ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে বলে উঠি, সুন্দরবন ইজ আওয়ার হেরিটেজ, ইট ইজ আওয়ার প্রাইড। লিন্ডার কাছ থেকেই জানতে পারি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে থাকা মাস্ক ফিনফুট সম্পর্কে । এক সময় এ পাখি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ঝরণায় দেখা যেত। এখন এদের শুধু সুন্দরবনেই দেখতে পাওয়া যায়। চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে এদের বেশি দেখা মেলে। পৃথিবীর বেশির ভাগ স্থান থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে এরা। মাটি থেকে এক- দেড় মিটারের মধ্যে এরা বাসা বাঁধে। ফলে বিলুপ্তির হারও বেশি। কথায় কথায় চলে আসে সুন্দরবনে তেল ছড়িয়ে পড়ে খাদ্যচক্রের ক্ষতির বিষয়টি। লিন্ডা গ্রে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল আমাকে জানালেন। সুন্দরবনের ওপর  বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ব সুন্দরবন এলাকার প্রতি লিটার পানিতে ৩০০ থেকে ৪০০টি উদ্ভিদকণা এবং ২০ থেকে ৩০টি প্রাণীকণা থাকে। সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রতি লিটার পানিতে ২০ থেকে ৩০টি উদ্ভিদকণা এবং এক থেকে দুটি প্রাণীকণা পাওয়া গেছে। ঐ গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে স্বাভাবিকভাবে প্রতি বর্গমিটারে ১০ থেকে ১৫টি শামুক থাকে। তেল ছড়িয়ে পড়ার পর পাওয়া গেছে দু’ থেকে চারটি, তাও মৃত। শীতের এ সময়ে শ্যালা নদী ও পশুর নদে পাইস্যা মাছ ডিম পাড়ে। এই সময়ে পানির ওপর ডিম ও লার্ভা ভেসে থাকে। লিন্ডা জানায় গত তিনদিনে পরীক্ষা করে কোনো এলাকাতেই ঐ ডিম ও লার্ভা পাওয়া যায়নি। এধরনের পানিতে ছোট মাছের প্রধান খাদ্য উদ্ভিদকণা ও প্রাণীকণা বাঁচতে পারে না। কারণ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবিষয়ক জাতীয় সংস্থা ইপি-এর মান অনুযায়ী, প্রতি লিটার পানিতে দ্রবীভূত রাসায়নিকের পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি হলেই তা প্রাণী ও উদ্ভিদেওর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পশুর নদে ও শ্যালা নদীতে পানিতে দ্রবীভূত তেলের পরিমাণ ৫০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। 


লিন্ডার সঙ্গে আসা আরেক পরিবেশ বিজ্ঞানী রজার মুর জানালেন, বিজ্ঞানের সাধারণ সূত্র অনুযায়ী পূর্ব সুন্দরবনের তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকায় প্রাণীদের একটা বড় অংশ মারা যাবে বা ঐ অঞ্চল ছেড়ে চলে যাবে তারা। কারণ উদ্ভিদ কণা, প্রাণীকণা, কাঁকড়া, শামুকের দেহে ঐ তেল ঢুকলে তা অক্্রিজেন গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করবে। এতে এরা মারা যাবে। শ্বাসমূলীয় বনের শ্বাসমূলে অসংখ্য ছিদ্র থাকে, যা দিয়ে তারা নিঃশ্বাস নেয়। এই তেলের কারণে তারা ধীরে ধীরে মারা যেতে পারে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কথায় আমার টেনশন বেড়ে যায়। কারণ আমিও জানি যে, প্রাণীবিদ্যার খাদ্যশৃক্সখল অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান তথা খাদ্যচক্রের প্রাথমিক স্তর হচ্ছে উদ্ভিদকণা ও প্রাণীকণা। কিন্তু আমি তা জানলেও সমস্যার সমাধান যে এভাবে হবে না সেটাও আমি জানি। তাত্বিকভাবে অনেক কিছুই আমরা জানি তবে তা বাস্তবায়নে আমাদের শক্তি খুব কম। মনে হয় আমাদের মধ্যে অনেকেই জানি না যে, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদী হিমালয় থেকে সৃষ্টি হয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে মিশেছে। বঙ্গোপসাগরের মোহনার লোনা পানি  আর এ তিন নদীর মিষ্টি পানি মিলেমিশে একাকার হয়েছে। পানির সাথে আসা পলি জমে যে বদ্বীপ সৃষ্টি তৈরি হয় তাতেই সুন্দরবন সৃষ্টি হয়েছে। এধরনের বন উপকূলের স্থিতিশীলতার রক্ষা করে, ঝড়- জলোচ্ছাাস-উত্তাল তরঙ্গ ও জোয়ার-ভাঁটায় ভাঙন প্রতিরোধ করে। ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদের শ্বাসমূলের কারণে তা মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর কাছে এক আকর্ষণীয় আশ্রয়।  তারা খাবার এবং শিকারি প্রাণীদের কাছ থেকে আত্নরক্ষার জন্য এ ধরনের বনে আশ্রয় নেয়। ছোট মাছ, শামুক, কাঁকড়া, চিংড়ি ও পাখিদেরও আবাস হিসেবে এই ম্যানগ্রোভ বন অনন্য। কার্বন শোষণের মাধ্যমে এরা বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে সহায়ক। তাছাড়া এরা প্রবাল ও ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের আবাসের মতো আশপাশের বাস্তুসংস্থানে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এই বাস্তুসংস্থান যদি একবার ভেঙ্গে পড়ে তাহলেই নেমে আসবে এক মহা দুর্যোগ। তখন কি আমাদের কিছু করার থাকবে আর?


সুন্দরবনের যে এলাকায় তেলবাহী জাহাজ ডুবেছে  সে এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করতে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম আমরা। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা তাদের মত করে তথ্য সংগ্রহ করবেন আর আমি সাংবাদিক হিসেবে আমার মত করে তথ্য নেব।  


দুর্ঘটনা যে স্থানটিতে ঘটেছে তার থেকে কিছু ভেতরে স্থানীয়রা নৌকা করে এসে পানি থেকে তেল তোলার দেশীয় পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তাতে খুব একটা উপকার হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে আমার আগ্রহ লিন্ডাকে অনুপ্রাণিত করলো আমরা দু’জন ছোট একটা স্পিড বোট করে তাদের কাছাকাছি পৌঁছালাম। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেল এভাবে তেল তোলার চেষ্টায় দ্রুত তেল আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও তা ছড়িয়ে যাবে বলেই তাদের আশংকা। এলাকায় পাওয়া যায় দুর্লভ প্রজাতির ইরাবতি ও গাঙ্গীয় ডলফিন। এখন এসব ডলফিনও হুমকির মুখে পড়েছে। সারা পৃথিবীতে যখন ইরাবতী ডলফিন দুর্লভ, তখন বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকূলে হাজার  হাজার ডলফিনের সন্ধান পাওয়া যায়। সর্বশেষ তথ্যানুসারে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনের মিঠা পানিতে প্রায় ৬ হাজার ইরাবতি ডলফিন এখনও বসবাস করছে। অন্যান্য এলাকায় এই ডলফিনের সংখ্যা অনেক কম। মেকং নদীতে কমপক্ষে ১২৫টি, ফিলিপিন্সের মালায়াম পায়া সাউন্ডে ৭৭টি এবং ইন্দোনেশিয়ার মাহাকাম নদীতে ১০০টি ইরাবতি ডলফিন এখনও বেঁচে রয়েছে। এসব ইরাবতি ডলফিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বএশিয়ার বড় বড় নদী মোহনায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। মিঠা পানির ল্যাগুনে এরা নির্ভয়ে থাকতে পারছে না পরিবেশ দূষণের ব্যাপকতায়। বাংলাদেশের উপকূলে এসব ডলফিন  এখনও কিভাবে বেঁচে বর্তে আছে তা পরিবেশবিদদের কাছে খুব অবাক করা ব্যাপার। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা গ্রেও একই বিষ্ময় প্রকাশ করলেন। 


তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকায় প্রায় ৩,৫৮০০ লিটার ভারী জ্বালানী তেল নদী ও ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই প্রভাব থেকে ইরাবতী ডলফিনের অভয়ারণ্যকে রক্ষা করা যাবে কিনা সন্দেহ আছে। আমার সাথে আসা অনুসন্ধানী টিমটি ছয়দিনের জন্য  এসেছে। আজ আমরা অতিবাহিত করছি চতুর্থদিন।  আর দু’দিন ধরে এলাকা পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, এরিয়াল ফটোগ্রাফি নেওয়া, নমুনাসংগ্রহ এবং অন্যান্য মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সুপারিশ করবে এই অনুসন্ধানী  টিম। 


আজ খুব ভোরে উঠেছি। অবজারভেশন যানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ধূমায়িত কফি পান করছি। আগামীকাল এখানে আমাদের শেষ দিন। আমি জানি প্রথামত সুপারিশমালা পেশ করা হবে। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ খুব একটা হবে না।  বেলা বাড়তে খবর আসলো চাঁদপাই এলাকার নদী মোহনায় কয়েকটি ইরাবতী ডলফিন দেখা গেছে। অস্থির হয়ে উঠি সেখানে যাবার জন্য। ডলফিন দেখা যাবার স্থানে যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় দুপুর হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্য বলতে হবে। আমি কোন ডলফিনই দেখতে পেলাম না। প্রায় একঘন্টা অপেক্ষা করেও লাভ হলো না। ফিরে যাব কিনা ভাবছি। হঠাৎ মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগলো। বসে পড়লাম। সেমুহূর্তে দেখলাম নদীর পানির উপর কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভেসে ওঠা ইরাবতী ডলফিনকে। পরক্ষণেই আরও দুটি ডলফিনের মাথা পানির উপর জেগে উঠলো। আমার মাথা ঝিম ঝিম করা ভাব আরও বেড়ে গেল। মনে হল ডলফিনগুলো আমাকে যেন কিছু বলতে চায়। একধরনের অস্থিরতা আমার মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। সেই সাথে শরীরে একটা গভীর কষ্টবোধ তীব্র হয়। ঠিক এসময়ই আমার মোবাইলটা বেজে উঠে। ফোনটা ধরতেই পরিচিত কণ্ঠ স্বর ভেসে আসে। 


সোহেল, মার্সিয়াস বলছি। আবার তোমার সাথে কথা হচ্ছে। তোমাদের সুন্দরবন নিয়ে আমরা ভালকানরা অনেকদিন ধরেই কাজ করছি। তোমাদের দেশের এই এলাকায় ২০০৭ সালে ক্যাটিগরী-৫ ক্ষমতাসম্পন্ন সিডর সাইক্লোন আঘাত  হানে। তখন থেকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্থ এই বনের পরিচর্যায় নিয়োজিত আছি। সুন্দরবন অনেক প্রাকৃতিক ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে দ্রুত। কিন্তু যে ক্ষতি তোমরা নিজেরা করেছো তা কাটিয়ে ওঠা অনেক কষ্টকর। এবার তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাবার কারণে যে ক্ষতি হল তাও আমরা চেষ্টা করছি প্রাকৃতিকভাবে কাটিয়ে উঠতে।


আমার মাথায় প্রশ্ন জাগে তা’হলে কি পৃথিবীর এ অংশে ইরাবতী ডলফিনের সংখ্যা বেশি হবার কারণ ভালকানরা?
আমার প্রশ্নের উত্তর আসে সাথে সাথেই।
হ্যাঁ সোহেল, তুমি যা ভাবছো তাই। ইরাবতী ডলফিনসহ তোমাদের এই অঞ্চলের সামগ্রিক ইকোসিস্টেম রক্ষায় আমরা ভালকানরা কাজ করছি। তোমার সাহায্যের কোন প্রয়োজন এখন পর্যন্ত হয়নি, তাই তুমি এখানে আমাদের উপস্থিতির কোন খবরই জানতে পারো নি। এখনও তোমার দরকার হবে না। ইরাবতী ডলফিনের আশ্রয়স্থল নিয়ে  কোন চিন্তা করো না। আমরা কাজ করছি। সময় হলে সব জানতে পারবে।
-এবার কি তোমার সাথে দেখা হবে না? আমি পাল্টা প্রশ্ন করি।
না সোহেল, এবার না। তবে নিশ্চয় আগামীতে তোমার সাথে দেখা হবে এবং তা হবে খুব তাড়াতাড়ি।’ 


আজ আমি ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা হবো। পেছনে ফেলে যাচ্ছি কিছু স্মৃতি-যা সাধারণ স্মৃতির চেয়ে অনেক মূল্যবান। মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীর মানুষ হয়েও আমরা কত সাধারণ মন-মানসিকতার। নীলগ্রহের বাসিন্দা আমরা। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায় এর বিশাল অংশ জুড়ে। কারণ পৃথিবীর পাঁচটি মহাসাগরের বিপুল জলরাশির কারণে এই নীল বর্ণচ্ছটা পৃথিবীর। অন্যগ্রহের প্রাণী হলেও ভালকানরা আমাদের কল্যাণের কথা ভাবছে। পৃথিবীর ইকোসিস্টেম ভালকানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা আমাদের ধ্বংস না করে বরং আমাদেরসহ সমগ্র পৃথিবীকে সবুজ জীবন দিতে চাচ্ছে।
এবার মার্সিয়াসের দেখা পেলাম না বলে মনটা খারাপ হয়ে গেল। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি আমাদের নৌযানের চারপাশে ইরাবতী ডলফিনগুলো বারবার মাথা তুলে ভেসে উঠছে। সমবেতভাবে ডলফিনগুলো কি যেন বলতে চাইছে। আমার মাথাটা আবার ঝিমঝিম করে। মনে হয় ডলফিনগুলোর মাধ্যমে মার্সিয়াস ভালকানের কোন নতুন খবর আমাকে পাঠাতে চাইছে। গভীর তন্দ্রায় আমি যেন আস্তে আস্তে চেতনা হারিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম। স্বপ্নের মধ্যে শুনতে পেলাম মার্সিয়াস যেন বলছে, 

সোহেল তোমাদের দেশের প্রাণীকুলের ১,৬১৯ প্রজাতির মধ্যে ৩৯০টি আজ হুমকির মুখে, ঝুঁকিতে আছে ১৫৩ প্রজাতি, মহাবিপন্ন ৫৬ প্রজাতি আর বিপন্ন ১৮১ প্রজাতি- আমরা ভালকানরা তোমাদের পাশে থেকে এসব প্রজাতিকে রক্ষা করতে চাই, বাঁচাতে চাই। আগামীতে তোমার সাহায্য আমাদের অবশ্যই প্রয়োজন হবে বন্ধু। তবে আজ বিদায়। ‘নি না বার সা’।

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog