ব্রেনকে সচল ও অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন করার কলাকৌশল

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 85 জন পাঠক।
 কি করে না আপনার ব্রেন? দেশের সব কাজের নিয়ন্ত্রক এ হলুদ পদার্থটুকু। অনেকটা অবিশ্বাস্য কিন্তু বাস্তব। পরিকল্পনা, বিশে­ষণ আগামীর ধারণা তথা শিক্ষাগ্রহনসহ সব কিছূরই নিয়ন্ত্রণ। এ বস্তুুটি। আপনার ভালোলাগা, ভালোবাসাও কিন্তু এটিই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সত্যিকার ভাবেই মস্তস্ক হচ্ছে বিশাল নিয়ন্ত্রক। আপনি শ্বাস  নিচ্ছেন, আপনার গ্রহণ করা খাবারের বিপাকক্রিয়া এমনকি দেহের বর্জ্য ত্যাগেও ভূমিকা পালন করে আপনার ব্রেন। যেকোন কাজ আপনি করছেন, ভাব বিনিময় করছেন তাও এরই সক্রিয়তায়। ব্রেনের জন্যই আপনি একটি ভালো ছবি দেখে উচ্ছ¡সিত হচ্ছেন। আগ্রহ ভরে একটি লেখা পড়ছেন কিংবা একটি দৃশ্য দেখে ব্যথিত হচ্ছেন এরই জন্য। ব্রেনের জন্যই আপনি একজন মানুষ। খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে বিখ্যাত গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটাস সে সময়ই ব্রেনকে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহি্তৃ করেন। যখন তিনি কারো মানসিক অসুস্থতা প্রত্যাশা করেছেন তখনই তিনি বলেছেন যে, ‘আমাদের প্রশান্তি, আনন্দ, হাসি, তামাসা ইত্যাদি বাড়িয়ে তোলা উচিত। এজন্য অবশ্যই ব্রেনকে শক্তিশালী করতে হবে। কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে এর পরিধি বাড়াতে হবে। দিতে হবে বিশ্রাম। 

সম্প্রতি এক নতুন গবেষণায় জানা যায় যে, আপনি নিজেই নিজের ব্রেনকে শক্তিশালী ক্ষুরধারসম্পন্ন করে তুলতে পারেন। আর তা সম্ভবপর হতে পারে কোন ওষুধ, দামি যন্ত্রপাতি অথবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও সাহায্য ছাড়াই। সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায়। মাত্র কয়েকটি স্মার্ট মুভমেন্ট অর্থাৎ কিছু নড়াচড়া ও হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমেই এটি করা যায়।

ব্রেন অর্থাৎ মস্তিস্ক হতে হবে মোট শরীরের ওজনের শতকরা ২ ভাগ। এর জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন এবং গ্লুকোজের সরবরাহ। কিন্তু জন্মের আগে শিশু এ উপাদানগুলো নির্দিষ্ট মাত্রায় পায় না। তবে ধীরে ধীরে দেহের গৃহীত পর্যাপ্ত উপাদানের মাধ্যমে ব্রেনের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে । ব্রেনের সেলগুলো বার বার পরিবর্তিত হচ্ছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু আমরা চেষ্টা করলেই ব্রেনের সক্রিয়তা এবং কার্যক্ষমতার উত্তোরণ ঘটাতে পারি।

ভিটামিন এবং খনিজসমৃদ্ধ সুষম খাবার এক্ষেত্রে খুব জরুরি। কারণ শক্তিশালী ও কার্যকর ব্রেনে উচ্চস্তরের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যামিনো অ্যাসিডের উপস্থিতি থাকতে হবে। অবশ্য চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এগুলো স্থূলতা বৃদ্ধি করে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। সম্প্রতি আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিং’ মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া ও মস্তিস্কজনিত সমস্যার জন্য ফ্যাটজাতীয় খাবারকে শনাক্ত করেছে। কারণ চর্বি ব্রেনের রক্তবাহী নালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায়। ক্ষেত্র বিশেষে রক্তপ্রবাহ বন্ধও করে দেয়। ফলে ,মস্তিস্ক সমস্যা, স্মৃতি বৈকল্য ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ফ্রি রেডিক্যাল থেকে মস্তিস্ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফ্রি রেডিক্যাল হচ্ছে এক রকম ধবংসাত্নক কোষ যা ব্রেনের অভ্যন্তরিণ যোগাযোগের ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুদ্ধ করে ফ্রি রেডিক্যালকে প্রতিরোধের জন্য। প্রচুর শাকশবজি এবং মালটি ভিটামিন খেতে হবে প্রতিদিন যাতে ফ্রি রেডিক্যাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া পেতে। বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন হার্ভাড ইউনিভার্সিটির ডা. মেরিলিন সিলাগি আলবার্ট। আলঝেইমারস রোগটির জন্যও রক্তপ্রবাহের সমস্যা এবং এর প্রতিরোধে ভিটামিনের ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এবার আসুন জেনে নেয়া যাক ব্রেনকে সচল ও সতেজ রাখতে সাপ্রতিক গবেষণায় কি পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আপনার ব্রেনের দরকার প্রশিক্ষণ ব্রেনের কোষগুলোকে সজীব ও কর্মক্ষম রাখতে নিচের কাজগুলো অতিরিক্ত সার্কিট হিসেবে কাজ করবে। ১. দু’হাত এক সঙ্গে ব্যবহার করার অভ্যাস করুন। দুটি বল কিংবা দু’কাপ চা ইত্যাদি দুহাতে নিয়ে প্র্যাকটিস করুন দুটি ছোট বালতি নিয়েও প্র্যাকটিস করতে পারেন। যারা কম্পোজ করেন তাদের কাজ এক্ষেত্রে সেরা উদাহরণ।
২. টুথপিক অথবা ইলাস্টিক ব্যান্ডের ২৫ রকমের ব্যবহার চিন্তা করুন।
৩. প্রতিদিনের কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন - টাই বাঁধা থেকে শুরু করে জুতোর ফিতে বাঁধা পর্যন্ত।
৪. হঠাৎ হঠাৎ আপনার বাঁ হাতে দাঁত মাজুন, খাবার খান, জিনিস তুলুন বিপরীত অভ্যাসের জন্য। বাঁ পা আগে বাড়ান, বলে লাথি মারুন।
৫. চোখ বন্ধ করে রুমের মধ্যে হাঁটুন। অন্যজন কিংবা কোনো আসবাবকে এভাবে স্পর্শে অনুভব করুন। বিভিন্ন রকম শিক্ষা, ঘ্রাণ এবং অনুভবে বাতাসের আর্দ্রতা, তাপমাত্রা অনুধাবনের চেষ্টা করুন।
৬. কিছুক্ষণ আপনার ওয়ারড্রোবের ভেতরে কিংবা আলমিরাতে দৃষ্টি দিন।এবার দৃষ্টি ফিরিয়ে ঐ দেখা জিনিসের একটি তালিকা তৈরি করে মেমোরি যাচাই করুন। পেইন্টিং, ফটোগ্রাফ ইত্যাদি দিয়েও এ পরীক্ষা চালাতে পারেন।
৭. প্রতিদিনের একটি রুটিন করে নিন। ঘরে ফিরতে প্রায়ই নতুন নতুন পথ ব্যবহার করুন। প্রাত্যহিক বিনোদনের বা খেলার নতুন উপায় অবলম্বন করুন ।

এসব প্র্যাকটিস ব্রেনকে সচল ও কার্যকর করে। ব্রেন কার্যকর থাকলে আপনার রোগব্যাধি হবার সম্ভাবনা খুবই কম। বাড়বে চিন্তাশক্তি। মন সতেজ হবে। বিজ্ঞানীরা তাদের সাম্প্রতিক এ গবেষণায় ব্রেনকে সক্রিয় রাখতে যে কৌশলগুলো খাটাতে বলছেন সেগুলো কিন্তু কোনো ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া নয়। এটিই খুব আশ্চর্যের ব্যাপার! ব্রেন ঠিক রাখুন। আপনি নিজেই নিজের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবেন।

মন আর ব্রেন কি একই জিনিষ? ‘মাইন্ড ইজ অল দ্য থিংগস দ্য ব্রেন ডাজ’ এ কথা বলেছেন পৃথিবীর নামী নিউরোলজিস্ট রিচার্ড রেসটাক। তার মতে ব্রেনের সকল কাজই মন। ইংরেজিতে যাকে মাইন্ড বলা হয়। অধিকাংশ বিজ্ঞানী এর সঙ্গে একমত হলেও অনেকেই আবার বলেন এ ধারণা সঠিক নয়। ‘মাইন্ড’ সম্পর্কে এখনও আমরা অনেক কিছুই জানি না। বহু প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে পাওয়া যায় নি এ সম্পর্কে। তবে বিজ্ঞান একদিন অবশ্যই এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবে। যেমনটি জানা গেছে হাইপোথ্যালামাস সম্পর্কে। হাইপোথ্যালামাস হচ্ছে আমাদের আবেগ, চিন্তা ইত্যাদির নিয়ন্ত্রক । তবে ব্রেন হচ্ছে একটি ইলেকট্রোকেমিক্যাল কার্যকারণ।

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog