লিমেরিক ১. ‘বেশি খেলে অসুখ-বিসুখ হয়’- মহাজনের বাক্যটি ভাই হেলাফেলার নয়। দু’চারটে ভুট্টাদানা তাতেই চলে আমার খানা বেশি কি আর পোড়া পেটে সয়! ২. হবুচন্দ্র রাজা মোদের তার কথাতেই চলি, গবুচন্দ্র মন্ত্রীর গুণ কেমন করে বলি! মুখটি বুজে চলতে হবে নইলে ধরে শির না রবে, তাই পেটে খিদে, মুখে লাজ হাসিমুখে চলি। ৩. আজব দেশের ব্যাপার দেখে লাগে চোখে ধাঁধা, মানুষগুলো ঘাস চিবিয়ে বলে মোরা গাধা। পিঠের পরে নিয়ে বোঝা জানি মোরা চলতে সোজা। তত্ত্ব কথা শুনিয়ে মিছে লাগিয়োনাকো ধাঁধা।।
শুধু নরম পায়ে এসো, এ কি খুব বেশি চাওয়া, যখন ঘড়ির কাঁটা সময়ের গভীরে ডুবে যায়, ভূতুড়ে ঠোঁটে নিভে যাওয়া সিগারেট জ্বলে ওঠে। ভালো করে তারিখ মিলিয়ে নাও, ভালো করে বন্দুকও দেখো— না? আর তো দরকার হবে না! শীতের চাদরে ঢাকা আঙুল, অন্য কারও রক্তে ভেজা হাত। তুমি আঙুলেই আগুন জ্বালো, আর ধোঁয়ায় হারিয়ে যাও, যখন ক্লান্ত রাত জ্বলে ওঠে, অন্ধ চোখ দুটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে।
গন্তব্য নেই শহরের কোলাহল ভালোলাগে না। বর্বর শহর তুমি গ্রাস করো গ্রাম: পিচঢালা রাজপথে অহংকার, লুণ্ঠন আর কান্নার দিনলিপি লেখা হয় অবিরাম, অবিরত। বহুতল ভবন আর বস্তিতে মিথ্যের কথকতা… কর্পোরেট কালচার গিলে খায় সব! প্রতিদিন পাখিরা কেবল ডানা মেলে শহরেও, মিলিয়ে যায় গন্তব্যে দিগন্তে বিলীন। মানুষের নেই কেনো গন্তব্য, আদিগন্ত মিথ্যার বেসাতি কেবল।
প্লিজ এমন করো না তোমরা আমাদের ঠোঁটগুলো নিষ্প্রাণ হয়ে আসে, তোমরা নিষ্প্রাণ হয়ে এসে আমাদের ঠোঁটে হিংসার বন্যা বইয়ে দিচ্ছো। প্লিজ দিয়ো না। আমাদের পরিবারের কাছ থেকে আমাদের কেড়ে নিয়ো না।, যেও না ওই পথ ধরে তুমি কেড়ে নেওয়া জিনিষের ওপর নজর দিচ্ছো কেন? প্লিজ দিয়ো না। সৃষ্টিকর্তা সাক্ষী আমাদের ভাগ্য বদলে গেছে, তোমাদের কারণে, আমাদের দুনিয়া ওলট পালট করে দিচ্ছো, আমাদের বিধ্বস্ত করে দিচ্ছো, শোকে জর্জরিত করে দিচ্ছো; প্লিজ দিয়ো না। তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে সেই বিরহী চাঁদের আধাঁর ঘনিয়ে আসবে, চাঁদের আলো ঢেকে দিতে চাইছো; প্লিজ দিয়ো না। হে দুনিয়া আর আখিরাতের রক্ষাকর্তা, তু...
বাতাসে বিষ! নিশ্বাসে অসহ্য জ্বালা, শহরের বাতাসে, মানুষের নিঃশ্বাসে কেবলই দুষণ চলা-ফেরা করে। উড়ন্ত ট্রেন ছুটির দিনের আনন্দকে করেছে গতিময়, দিয়েছে যান্ত্রিকতা; কাগজের ওপর ফুল আর পাতা দিয়ে বানানো শুভেচ্ছা কার্ড রূপ নিয়েছে স্মার্ট কার্ডের। হে প্রকৃতি আমাদের এভাবে নিঃস্ব করে দিয়ো না। পূর্ব-পুরুষের উপস্থিতি আমাদের অনুভব করতে দাও; ত না’হলে অস্থিত্বহীনতার অনুভূতি কেমনভাবে অনুভূত হবে? তোমাদের উৎসব পার্বণের উল্লাস আর হাততালিতে পথশিশুদের কান্না ভেসে আসে। ভেসে আসা সে কান্নাকে পুজি করে বিভিন্ন ভাবে পুঁজির বিকাশ হয় আরো। আগুনের মতো গ্রীস্মকাল, পলাতক বৈশাখী ঝড়ের কথ...
