দিন গড়িয়ে যাচ্ছে একের পর এক।
পিপ মাঝে মাঝে সেই রহস্যপুরীতে যায়, আসে।
আজও সে গেলো।
স্টেলা সিঁড়িতে পথ দেখতে তাকে নিয়ে চললো উপরে- দোতালায়।
আগে আগে যাচ্ছে পিপ, সামান্য পিছে পড়েছে স্টেলা।
শান্ত ধীরকণ্ঠে স্টেলা জিজ্ঞেসে করলো,
আমি কি খুব খিটখিটে?
কে বললো তুমি খিটখিটে? এখনতো তুমি মেলাই ভালো মেয়ে হয়েছো! বললো পিপ, সহজ স্বস্তিপূর্ণ তার গলার স্বর।
কিন্তু স্টেলা মুহূর্তে বিগরে গেলো। কথা নেই বার্তা নেই, অতর্কিতে হাত তুলেই পিপের মুখে চাপড় বসিয়ে দিলো।
তবে রে ক্ষুদে শয়তান! এখন? এখন কি ভাবছিস তুই আমাকে?
শক্ত কণ্ঠে বললো পিপ
বলবো না, কখখনো বলবো না।
তার চোখ ছলছল করে উঠলো,
কাঁদ না। কাঁদিস নে কেন, ছোটকা রাক্ষস!
পিপের গলায় তেজ মেলাই, বললো,
কাঁদবো না কখখনো কাঁদবো না।
সিঁড়ির মাথায় মিস হ্যাভিসহামের ঘর। পিপ ঢুকে পড়লো তাঁরই ঘরে।
মিস হ্যাভিসহাম বললেন,
পাশের ঘরে গিয়ে বসোতো পিপ। আমি এই এলাম বলে।
পাশের ঘরটা একটা আজব ঘর।
কি নেই সেখানে পিপের পক্ষে বলা মুশকিল।
মিস হ্যাভিসহাম এসে বললেন,
এখানেই আমি শুয়ে থাকবো। অবশ্য মারা যাবার পর।
একটা বিরাট সুদৃশ কেকের দিকে তার হাতের লাঠিখানা তুলে বললেন
ওটাও আমার, এর সবই আমার।
আস্তে আস্তে বললেন, ‘আমার’।
পিপ বিস্ময়ে তলিয়ে গেলো।
এতো রহস্যও লুকিয়ে আছে এ দুনিয়ায়।
মিস হ্যাভিসহাম বললেন,
‘তোমার জন্মেরও এক বছর আগে এখানে যা যা দেখছো সব এনে জমা করা হয়েছিল।
আজ এ ঘরেরও শেষ হয়েছে আমিও ভেঙে পড়েছি! একে একে এর সব কিছুতে ইঁদুরের দাঁত বসেছে,
ওদিকে ইদুঁরে দাঁতের চেয়েও ধারালো –যমের দাঁতের কামড়ের মধ্যে গিয়ে পড়েছি আমিও!
তাঁর কথা শুনে পিপের চোখে অজানিতেই পানি এসে জড়ো হলো।
তারা দু’জন সে ঘরখানা থেকে বেরিয়ে এল তখুনি।
তারপর স্টেলাকে নিয়ে পড়লেন মিস হ্যাভিসহাম।
সারাদিন ধরে তিনি তাকে সাজালেন বহু বিচিত্রবর্ণের পরিচ্ছেদে। অজস্র হীরে পান্নার গহনায় আলো ঝলমল করে উঠলো স্টেলা।
আয়নার সামনে নিয়ে গেল তাকে!
পিপকে পাশে ডেকে মিস হ্যাভিসহাম জিজ্ঞেস করলেন,
কেমন পিপ, স্টেলাকে পরমাসুন্দরী মনে হচ্ছে না?
পিপের চোখে পলক পড়ে না। তার মুখও মুগ্ধবিস্ময়ে হাঁ হয়ে পড়েছে।
মিস হ্যাভিসহাম তার হতচকিত অবস্থা দেখে জোরে হেসে উঠলেন। (চলবে)