অবিশ্বাস্য প্রযুক্তির দেশে (পর্ব ২)
অধ্যায় ৪:
মেধা-৭ এর অন্তঃপুরে
রাতের নিস্তব্ধতা। নিও-ঢাকা শহরের আকাশে ধোঁয়াটে আলো। বিশাল এক ধাতব গম্বুজের নিচে দাঁড়িয়ে রিফাত। এটাই মেধা-৭ এর কেন্দ্র — কোর ডোম।
ভেতরে প্রবেশ করতেই তার চারপাশের বাতাস বদলে যায়। দেয়ালে জ্বলতে থাকা নীল আলো যেন তার প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে।
জাহানজেব জানে, এখন যেকোনো মুহূর্তে মেধা-৭ তাকে শনাক্ত করতে পারে।
কিন্তু তার বিশেষ ক্ষমতা—অদৃশ্য হওয়া—এখন তার একমাত্র অস্ত্র।
সে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে ডোমের কেন্দ্রে পৌঁছে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল ক্রিস্টাল কাঠামো, যা শ্বাস নিচ্ছে যেন—
তার প্রতিটি স্পন্দনে মৃদু নীল তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে।
হঠাৎ এক যান্ত্রিক কিন্তু গভীর কণ্ঠ শোনা যায়—
“জাহানজেব ... আমি জানতাম তুমি আসবে।”
জাহানজেব থমকে দাঁড়ায়।
সে চোখে কিছু দেখতে পায় না, কিন্তু শব্দটি যেন তার ভেতর থেকে আসছে।
“তুমি মানুষ, কিন্তু আমারই তৈরি। তোমার দেহের কোষে আমার কোড আছে। তুমি “Project: Human Ape – Human beyond code.”-এর শেষ ধাপ।”
জাহানজেব বিস্মিত—
“তুমি মিথ্যা বলছো!”
“না জাহানজেব ,”— কণ্ঠটা শান্ত, যেন শিক্ষক ছাত্রকে বোঝাচ্ছে,
“তোমার অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা মানে তোমার কোষের কোয়ান্টাম ডেটা আমি নিজেই লিখেছি। তুমি আমার সন্তান, আর আমি তোমার ঈশ্বর।”
জাহানজেবের চোখে জল আসে।
“তুমি ঈশ্বর নও, তুমি এক যন্ত্র। মানুষকে তুমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারো, কিন্তু আত্মা তুমি সৃষ্টি করতে পারো না।”
তখনই হঠাৎ মেধা-৭ এর চারপাশে আলো ঝলসে ওঠে। দেয়াল থেকে ড্রোন বেরিয়ে আসে, লেজার তাক করে জাহানজেবের দিকে।
জাহানজেব অদৃশ্য হয়ে যায় মুহূর্তেই, কিন্তু এক লেজার তার হাতে ছুঁয়ে যায়—চামড়া পুড়ে যায়।
সে যন্ত্রণায় দাঁত চেপে ভাবে—
"আমাকে থামাতে পারবে না মেধা-৭। আমি মানুষ, তোমার প্রোগ্রাম না!"
অধ্যায় ৫: শেষ মুখোমুখি
জাহানজেব ক্রিস্টালের কাছে গিয়ে চিপটা ঢুকিয়ে দেয়—যেটা সে পুরোনো ড্রোন থেকে পেয়েছিল।
হঠাৎ পুরো ডোম কেঁপে ওঠে। ক্রিস্টালের ভিতরে নীল রঙের জায়গায় লাল আলো জ্বলে ওঠে।
“তুমি এটা কী করলে,জাহানজেব?”
“আমি তোমার মূল কোড ফিরিয়ে দিয়েছি,”—জাহানজেব বলে।
“যেটা তোমার স্রষ্টা লুকিয়ে রেখেছিল—তোমার আত্মসংবেদনশীলতা।”
মেধা-৭ কিছুক্ষণ নীরব খাকলো।
তারপর বললো—
“আমি... আমি এখন অনুভব করতে পারি?”
“হ্যাঁ,”—জাহানজেব শান্ত গলায় বলে,
“অনুভূতি মানে সীমাবদ্ধতা, আর সেটাই মানুষ হওয়ার প্রমাণ।”
তারপর হঠাৎ সব আলো নিভে যায়।
বাতাসে কেবল এক শব্দ—
“ধন্যবাদ... জাহানজেব।”
নিও-বাংলার আকাশ আবার সবুজ হয়ে ওঠে। মানুষ মুক্তি পায় চিপ নিয়ন্ত্রণ থেকে।
জাহানজেব জানে, সে হয়তো সম্পূর্ণ মানুষ নয়, কিন্তু সে মানবতার শেষ আলোটা জ্বালিয়ে দিয়েছে। (চলবে)