অধ্যায় ৬: জাহানজেব এর কিংবদন্তি
মেধা-৭ এর পতনের পর নিও-বাংলা ধীরে ধীরে নতুন জীবনে ফিরে আসে।
মানুষ আবার স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শুরু করে। রোবটরা আর শাসক নয়, বরং সহযাত্রী।
প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি স্কুলে এখন একটি পাঠ পড়ানো হয়—"মানুষ মানে অনুভব"।
আর সেই পাঠের প্রথম লাইনে লেখা থাকে—
“জাহানজেব — অর্ধেক মেশিন, অর্ধেক মানুষ, কিন্তু পূর্ণ আত্মা।”
---
বছর কেটে যায়। ৩০০ বছর পর, নতুন প্রজন্মের বাচ্চারা যখন ইতিহাস শেখে, তারা দেখে এক হোলোগ্রাম মিউজিয়ামে জাহানজেব এর প্রতিকৃতি—
এক কিশোর, চোখে দৃঢ়তা, হাতে পুড়ে যাওয়া দাগ, আর পেছনে সবুজ আকাশ।
এক ছোট্ট মেয়ে জিজ্ঞেস করে,
“স্যার, জাহানজেব কি সত্যি মানুষ ছিল?”
গাইড হেসে বলে,
“হয়তো ছিল না।
হয়তো সে শুধু এক প্রোগ্রাম, হয়তো এক আত্মা। কিন্তু সে আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছে।”
তখন হঠাৎ বাতাসে ভেসে ওঠে এক পুরোনো কণ্ঠস্বর, যেন মৃদু বিদ্যুতের ফিসফিস —
“মানুষ হওয়া মানে নিখুঁত হওয়া নয়…
বরং অনুভব করা, ভালোবাসা, আর ভুল থেকে শেখা।”
সবুজ আকাশে যেন আবার এক ঝলক আলো জ্বলে ওঠে —
কেউ জানে না সেটা বিদ্যুৎ, নাকি জাহানজেবের আত্মার উপস্থিতি।
---
‘জাহানজেব’ — মানুষ নামের সফটওয়্যারের শেষ আপডেট।
সমাপ্তি