সোশ্যাল মিডিয়ায় ভূমিকম্প নিয়ে"ভিউ বাণিজ্য" ও ভূমিকম্প আপডেটের বাস্তবতা
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে, বিশেষত ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকার নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হানা উল্লেখযোগ্য মাত্রার ভূমিকম্পের পর থেকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষত ফেসবুক ও ইউটিউব—ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য, সতর্কতা ও "ভবিষ্যদ্বাণী"তে সয়লাব হয়ে গেছে। এর একটি বড় অংশ প্রকৃত বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য হলেও, একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তৈরি হয় দর্শক-আকর্ষণ, শেয়ার ও মনিটাইজেশনের উদ্দেশ্যে—যাকে সহজ ভাষায় বলা যায় "ভিউ বাণিজ্য"। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভূমিকম্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এসব "আপডেট" ও "পূর্বাভাস" আদৌ কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে বাস্তবসম্মত তা সাধারণ মানুষ কি বিবেচনায় নিচ্ছেন? না’কি বিভ্রান্তি এবং আতংক সমাজকে অজানা এক ভীতির রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে।
"ভিউ বাণিজ্য": কীভাবে কাজ করে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মূলত এনগেজমেন্ট—অর্থাৎ ভিউ, শেয়ার, মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া—দ্বারা চালিত হয়, সত্যতা দিয়ে নয়। ভূমিকম্পের মতো বিষয় এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপযোগী, কারণ এটি একসঙ্গে ভয়, কৌতূহল ও তাৎক্ষণিকতার অনুভূতি জাগায়। এই কাঠামোর মধ্যে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়:
● আতঙ্ক-ভিত্তিক শিরোনাম: "আসছে ভয়াবহ ভূমিকম্প", "বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে", “ঢাকা শহর আর থাকবে না”-জাতীয় শিরোনাম ক্লিক ও শেয়ার বাড়ায়, যদিও ভেতরের তথ্য প্রায়ই দুর্বল বা ভিত্তিহীন।
● পুরনো বা ভিন্ন দেশের ফুটেজের পুনর্ব্যবহার: মিয়ানমার, নেপাল বা ইন্দোনেশিয়ার পুরনো ভূমিকম্পের ছবি-ভিডিওকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়।
● অতিমাত্রায় ঘন ঘন "আপডেট": প্রতিটি ছোট কম্পন বা এমনকি দূরবর্তী দেশের ভূমিকম্পকেও জরুরি সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করে দর্শক ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।
● ছদ্মবিজ্ঞান বা কুসংস্কার-নির্ভর দাবি: জ্যোতিষশাস্ত্র, চাঁদের অবস্থান বা গ্রহ-নক্ষত্রের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট তারিখে ভূমিকম্পের দাবি করা হয়, যা দেখতে বিশ্লেষণাত্মক মনে হলেও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
● নিয়মিত আপলোড চ্যানেল: কিছু পেজ ও চ্যানেল একচেটিয়াভাবে ভূমিকম্প-সম্পর্কিত বিষয়বস্তু তৈরি করে, যেখানে সত্য তথ্যের চেয়ে অতিরঞ্জন ও পুনরাবৃত্তিমূলক আতঙ্ক তৈরির প্রবণতাই বেশি লক্ষণীয়। এমনকি তারা এমন অ্যাপ দেখায় যেখানে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য মাত্রা ও সময় বিস্তারিত শতাংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ৫০%, ১০০% এইভাবে বলা হয়।
এই ধরনের কনটেন্ট থেকে সরাসরি বিজ্ঞাপন আয়, ফলোয়ার বৃদ্ধি বা পেজ প্রোমোশনের সুযোগ তৈরি হয় বলেই এটিকে "বাণিজ্য" বলা যৌক্তিক—এখানে আতঙ্কই মূলধন হিসেবে কাজ করে। ফলে ভূমিকম্প সম্ভাবনা মানুষের মন জগতকে অনুভূতিহীন করে দেয়। অথচ সৃষ্টির শুরু থেকেই এই ভূমিকম্প হয়ে আসছে। এটা প্রাকৃতিক ঘটনা। মানুষকে এর মোকাবিলায় নিজেকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত
২১ নভেম্বর ২০২৫-এর ভূমিকম্প ও তার পরবর্তী তথ্য-বিশৃঙ্খলা
২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকার নিকটবর্তী এলাকায় রিখটার স্কেলে প্রায় ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে হতাহতেরও ঘটনা ঘটে এবং বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়। এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্যের বন্যা দেখা যায়। একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে যাচাই করা মোট ভুয়া তথ্যের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল এই ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে।
ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বিদেশের ভিন্ন সময়ের ভূমিকম্পের ছবি ও ভিডিওকে বাংলাদেশের বলে প্রচার করার প্রবণতা। (উৎস: প্রথম আলো)
অর্থাৎ, প্রকৃত ঘটনার আতঙ্ককে পুঁজি করে পুরনো ও ভিন্ন উৎসের ফুটেজ পুনর্ব্যবহার করাই ছিল সবচেয়ে সাধারণ প্যাটার্ন।
৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এর "মহাপ্রলয়" গুজব
এই ভূমিকম্পের কিছুদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে—৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাবে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দাবির ভিত্তি ছিল জ্যোতিষশাস্ত্রীয় হিসাব ও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান-সংক্রান্ত ব্যাখ্যা—কোনো ভূতাত্ত্বিক বা সিসমোলজিক্যাল তথ্য নয়। এই দাবি জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও, নির্ধারিত তারিখে এমন কোনো ভূমিকম্প ঘটেনি।
ভূমিকম্পের "পূর্বাভাস" আদৌ কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থাগুলোর অবস্থান স্পষ্ট ও একবাক্যে সীমাবদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএসজিএস বা অন্য কোনো আর্থ সায়েন্স বিজ্ঞানী আজ পর্যন্ত কোনো বড় ভূমিকম্পের সফল পূর্বাভাস দিতে পারেননি, এবং নিকট ভবিষ্যতে তা সম্ভব হবে বলেও মনে করা হয় না।
একটি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য ভূমিকম্প-পূর্বাভাসের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট উপাদান একসঙ্গে উল্লেখ থাকা আবশ্যক—নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়, নির্দিষ্ট স্থান, এবং নির্দিষ্ট মাত্রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অধিকাংশ "পূর্বাভাস"-এ এই তিনটি উপাদানের অন্তত একটি অনুপস্থিত থাকে, অথবা দাবিটি এত সাধারণভাবে করা হয় যে যেকোনো ভূমিকম্প ঘটলেই তা "মিলে যাওয়া" বলে দাবি করা যায়।
এখানে দুটি ভিন্ন ধারণাকে আলাদা ভাবে বোঝা আমাদের জন্য জরুরি:
● পূর্বাভাস (Prediction): নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও মাত্রা উল্লেখ করে আগেভাগে জানানো—যা বর্তমান বিজ্ঞানে সম্ভব নয়।
● সম্ভাব্যতা নিরূপণ (Probability Forecast): একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আগামী কয়েক বছর বা দশকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার পরিসংখ্যানগত সম্ভাবনা—যা ভূতাত্ত্বিক গবেষণার একটি বৈধ ও কার্যকর ক্ষেত্র।
● প্রারম্ভিক সতর্কতা (Early Warning): ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত করে কয়েক সেকেন্ড থেকে কমপক্ষে দশক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠানো—এটি ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের দ্রুত শনাক্তকরণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তিনটি ধারণা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়, এবং সম্ভাব্যতা নিরূপণ বা সতর্কতাকেও অনেক সময় "পূর্বাভাস" হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা বিভ্রান্তি বাড়ায়।
আন্তর্জাতিক বিশ্বেও এমনটি ঘটছে, এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়
ভূমিকম্প-কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্যের প্রবণতা বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত এবং গবেষণার একটি স্বতন্ত্র ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। উল্লেখযোগ্য কিছু দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক।
● আলবেনিয়া, ২০১৯: একটি ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের পর গণমাধ্যমে একটি বড় পরাঘাতের ভুয়া পূর্বাভাস ছড়িয়ে পড়লে মানুষ আতঙ্কে শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করে।
● চিলি, ২০১০: ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির পর টুইটারে (বর্তমান এক্স) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে উদ্ধার তৎপরতায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
● মেক্সিকো, ২০১৭: পুয়েবলা ভূমিকম্পের পর তথ্য-বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় নাগরিকরা নিজেরাই একটি যাচাইকৃত হ্যাশট্যাগ চালু করেন।
● যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৯০: ব্যবসায়ী আইবেন ব্রাউনিং-এর করা নিউ মাদ্রিদ ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কোনো বৈজ্ঞানিকভিত্তি ছাড়াই ব্যাপক গণমাধ্যম-কভারেজ পায়, যদিও তা সংঘটিত হয়নি।
এসব ঘটনার ধরন লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ প্যার্টান কাজ করেছে—প্রকৃত ঘটনার সৃষ্ট আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবি, যা মূল ঘটনার চেয়েও বেশি মনোযোগ পেয়েছে।
কেন এসব কনটেন্ট এত দ্রুত ছড়ায়
● অ্যালগরিদমিক প্রণোদনা: প্ল্যাটফর্মগুলোর সুপারিশ-ব্যবস্থা নির্ভুলতার চেয়ে ব্যস্ততা (এনগেজমেন্ট)-কে অগ্রাধিকার দেয়, ফলে আবেগপ্রবণ কনটেন্ট স্বাভাবিকভাবেই বেশি ছড়িয়ে পড়ে।
● মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা: বড় ভূমিকম্পের পর মানুষ ইতিমধ্যে উদ্বিগ্ন ও ভীত অবস্থায় থাকে, যা তাদের যাচাই না করেই তথ্য বিশ্বাস ও শেয়ার করার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
● "তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ" প্রপঞ্চ: ভূমিকম্পের পর অনেকেই টেকটোনিক প্লেট বা মাত্রার স্কেল সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মতামত দিতে শুরু করেন, যা প্রকৃত বিশেষজ্ঞ আর্থ সায়েন্স বিশেষ্ণ কণ্ঠস্বরকে চাপা দিয়ে দেয়।
● যাচাইযোগ্য উৎসের ঘাটতি: দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ভাষায় সরকারি বা বৈজ্ঞানিক তথ্যের অভাব থাকলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে অযাচাইকৃত কনটেন্ট।
মোকাবিলার উপায় কি?
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এই সমস্যা মোকাবিলায় সক্রিয় ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে। ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)-এর মতো সংস্থা একটি উল্লেখযোগ্য মডেল অনুসরণ করে—তারা ভূমিকম্পের পূর্বেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কীকরণমূলক (prebunking) বার্তা প্রচার করে, যাতে ভুয়া পূর্বাভাস ছড়ানোর আগেই মানুষ সঠিক প্রেক্ষাপট জানতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক কিছু সুপারিশ হতে পারে:
● বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (GSB) পক্ষ থেকে ভূমিকম্পের পরপরই দ্রুত, সহজবোধ্য বাংলা ভাষায় সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা, যাতে তথ্যশূন্যতা তৈরি না হয়।
● গণমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, যাতে ভাইরাল দাবি দ্রুত যাচাই করে জনসম্মুখে আনা যায়।
● সাধারণ মানুষের মধ্যে মৌলিক মিডিয়া সাক্ষরতা বৃদ্ধি—কীভাবে একটি ভিডিও বা ছবির উৎস ও তারিখ যাচাই করতে হয়, তা শেখানো।
● "পূর্বাভাস", "সম্ভাব্যতা" ও "প্রারম্ভিক সতর্কতা"—এই তিনটি ভিন্ন ধারণার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সাধারণ সচেতনতামূলক প্রচারণা।
● সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে রিপোর্টিং টুল ব্যবহারে জনসচেতনতা তৈরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্প-সংক্রান্ত "ভিউ বাণিজ্য" মূলত এনগেজমেন্ট-চালিত অ্যালগরিদম, মানুষের স্বাভাবিক ভীতি ও তাৎক্ষণিক তথ্যের অভাবের সম্মিলিত ফসল। বাস্তবতা হলো, বর্তমান বিজ্ঞান নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান ও মাত্রা উল্লেখ করে ভূমিকম্পের নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা রাখে না—তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো প্রায় প্রতিটি "নির্দিষ্ট তারিখের ভূমিকম্প"-সংক্রান্ত দাবিই বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন। যা সত্যিকার অর্থে বাস্তবসম্মত ও উপযোগী, তা হলো দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিরূপণ (যেমন ঢাকার জন্য ভূমিকম্প-ঝুঁকির পরিসংখ্যানগত সম্ভাবনা) এবং প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা—এই দুটি বিষয়েই বিনিয়োগ ও প্রস্ততি সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।