এবারের শীত এবং লা নিনার প্রভাব

আলতামাস পাশা লেখাটি পড়েছেন 180 জন পাঠক।
 এবারের শীত লা লিনার প্রভাবে হবে প্রবল হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডার। বিশ্বের আবহাওয়াবিদরাও তেমনটিই বলছেন। তাদের মতে এবার হিমালয়ের কোলজুড়ে থাকা উত্তর ভারতে তুষারপাত কম হলেও, প্রবল শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। ভারতের মূলত কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ,সিকিম, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে তুষারপাত দেখা যায় শীতের সময়। এবার তো কাশ্মীরে টানা তুষারপাত হয়েছে। এর সাথে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। এবার তুষারপাত ২০২১ এর নভেম্বরের শুরু থেকেই কাশ্মীর ছেয়ে ফেলেছে। ফলে ঠাণ্ডাও বেড়েছে দ্রুত।

বিজ্ঞানীরা এর জন্য দায়ী করছেন, লা নিনা’কে। এটি হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের জলের উপরিভাগ স্বাভাবিকের চেয়ে ঠা-া হওয়ার কারণে যা কি’না বিগত কয়েক বছরব্যাপী চলে আসা এল নিনো’র ঠিক উল্টো চিত্র। লা নিনা একটি স্প্যানিশ শব্দ, যার অর্থ ছোট মেয়ে। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের পৃষ্ঠের ওপর যখন কম বায়ুচাপ থাকে তখন এই পরিস্থিতি দেখা দেয়। এর কারণে সমুদ্র পৃষ্টের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার উপর পড়ে এবং এটি গড় তাপমাত্রার চেয়েও শীতল হয়ে যায়। লা নিনা নয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই সময়ে, উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা আগের তুলনায় কম থাকে। এর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শীতের সময় তাপমাত্রা বেশি হয়ে থাকে। এর উৎসের জন্য বিভিন্ন কারণ রয়েছে, তবে সর্বাধিক প্রচলিত কারণটি, যখন পূর্ব থেকে প্রবাহিত বাতাস খুব উচ্চ গতিতে প্রবাহিত হয় তখনই এটি দেখা দেয়।

লা নিনাও ঘূর্ণিঝড়কে প্রভাবিত করতে পারে। এর গতির সাথে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের দিক পরিবর্তিত হয়। এর কারণে ইন্দোনেশিয়া এবং আশেপাশের অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। একই সময়ে, ইকুয়েডর এবং পেরুতে খরার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায়ও বন্যার আশংকা দেখা দেয়। ভারতে এই সময়টাতে শীত পড়ছে এবং প্রচুর বৃষ্টিও হচ্ছে।

এই লা নিনা এবার নিয়ে এবার নিয়ে পরপর দু’বছর সক্রিয় রয়েছে। এবার লা নিনার প্রভাব ২০২২ সালের প্রথম দিকেও বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শীত এবং ঠাণ্ডার অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়া বিশেজ্ঞরা লা নিনার প্রভাবে মাত্রা এবার ২০২২ এর জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি হবে। দেখা যাচ্ছে যে, উত্তর ভারতে শীত পড়েছে, আবার বিশ্বেও বেশিরভাগ অংশেই তাপমাত্রা বাড়ছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে এবারের শীত মার্চ মাস অবধি চলতে পারে।

বাংলাদেশেও এবার শীত হয়তোবা ফেব্রুয়ারি মাসের পুরোটা জুড়েই প্রভাব রাখবে। বৃষ্টিও হবে অন্যসব বছর থেকে বেশি। তাপমাত্রা বাড়বে, আবার কমে আসবে। এইভাবেই হয়তো চলবে বছরের প্রথমভাগ। এ বছর গরম কেমন পড়বে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

পাঠকের মন্তব্য


একই ধরনের লেখা, আপনার পছন্দ হতে পারে

bdjogajog